আটক নন, CJP-র ৩ শীর্ষ নেতাকে সরাসরি গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ! কোন আইনে?

দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদী বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে চরম আইনি বিপাকে পড়লেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি (CJP)-র শীর্ষস্থানীয় নেতারা। মঙ্গলবার যন্তর মন্তর চত্বর থেকে সিজেপি-র তিন দাপুটে নেতা—আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস এবং অজিঙ্ক শিন্দেকে প্রথমে আটক করা হয়েছে বলে খবর ছড়ালেও, পরে পুলিশ নিশ্চিত করে যে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সম্ভাব্য অশান্তি এড়াতে প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট বা আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই এই তিনজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সম্প্রতি যন্তর মন্তরে জোর করে প্রবেশ করে বিক্ষোভ ও স্লোগান দেন সিজেপি কর্মীরা। এর আগে থেকেই কেন্দ্র সরকারের তরফে কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল যে, যন্তর মন্তর এলাকায় এ ধরনের কোনও বিক্ষোভ বা জমায়েত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গেট টপকে ভেতরে প্রবেশ করার অপরাধে পুলিশ আগেই তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করেছিল।

বুধবার সকালে দিল্লির মন্দির মার্গ থানার ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে ওই তিন নেতাকে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। সিজেপি-র আইনি প্রধান রত্না সিং আগেই এক্স (যেটি আগে টুইটার নামে পরিচিত ছিল) হ্যান্ডলে পোস্ট করে জানিয়েছিলেন যে, ২৪ ঘণ্টার আইনি সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই তাঁদের এসইএম-এর সামনে পেশ করা হবে। পুলিশ সূত্রে খবর, দায়ের হওয়া এফআইআর-এ শান্তি বজায় রাখার জন্য পূর্বে স্বাক্ষরিত একটি শান্তিচুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের ধারাও বিশেষভাবে যুক্ত করা হয়েছে। সিজেপি-র দাবি অনুযায়ী, এই বিক্ষোভে তাঁদের প্রায় ১১ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছিল এবং তাঁদের দ্বারকার জাফরপুর কালান থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার জেরে সংশ্লিষ্ট থানা চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা দীপক এই সম্পূর্ণ পুলিশি পদক্ষেপকে যন্তর মন্তরে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি সুনির্দিষ্ট লড়াই হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন যে, সরকারের নির্দিষ্ট তালিকা থেকে যন্তর মন্তর চত্বরকে বাদ দেওয়া হলেও তাঁদের আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি কোনওভাবেই থামবে না, বরং তা আরও জোরালো হবে। উল্লেখ্য, এর আগেও গত শনিবার দিল্লি পুলিশের হাতে দীপক, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা আটক হয়েছিলেন। ‘যন্তর মন্তর ২.০’ আন্দোলনের ডাক দিয়ে দিল্লিতে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদের আটক করা হয়, যদিও সেবার কিছু শর্তসাপেক্ষে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে এবারের পরিস্থিতি অনেকটাই গুরুতর, কারণ বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ আসায় সিজেপি নেতৃত্বের ওপর চাপ আরও বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।