জন্মদিনেই তিহাড়ে আশুতোষ,৫ দিনের জেল হেফাজতে CJP নেতারা

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দিল্লির যন্তর মন্তরে গেট টপকে ঢুকে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগে সিজেপি (CJP)-র দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিল আদালত। মঙ্গলবার তাঁদের আটকের পর বুধবার সকালে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করানো হলে তিহাড় জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। কাকতালীয়ভাবে, বুধবারই ছিল আশুতোষ রাঙ্কার জন্মদিন, যা তিনি কাটাচ্ছেন কারাগারের চার দেওয়ালের মধ্যে। তবে এই মামলায় অপর ধৃত অজিঙ্ক শিন্ডেকে ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

কী অভিযোগ পুলিশের? মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার সকালে যন্তর মন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করেন CJP-র নেতারা ও কর্মীরা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জনতা দল ইউনাইটেড (JD(U)) কার্যালয়ের পাশের একটি সরু রাস্তা দিয়ে ১৪ জনের একটি দল সেখানে পৌঁছয় এবং সীমানা প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে।

আদালতে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১৬৩ ধারা লঙ্ঘন করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, সরকারি কাজে বাধা এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্যের মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ফোন করে লোক জড়িয়ে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করেছিলেন তাঁরা। ধৃতদের মুক্তি দিলে তাঁরা ফের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে পারেন—এমন যুক্তির পরই আদালত তাঁদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়।

CJP-র ক্ষোভ ও আইনি লড়াই ঘটনার পর থেকেই রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে। CJP প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে তাঁদের তিহাড় জেলে পাঠানো হতে পারে। অন্যদিকে, CJP-র লিগাল সেলের প্রধান রত্না সিং পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হয়ে অভিযোগ করেছেন, আটক নেতাদের দীর্ঘ সময় আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। রাত ৩টে নাগাদ একটি বেসরকারি গাড়িতে করে তাঁদের পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়, যা সম্পূর্ণ “বেআইনি ও স্বেচ্ছাচারী”।

যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই কর্মসূচি নিয়েছিলেন CJP নেতারা। তিরঙ্গা হাতে নিয়ে ‘ভারতমাতা কি জয়’ স্লোগান দিয়ে তাঁরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রতিবাদের মুখ বন্ধ করা গেলেও কণ্ঠরোধ করা যাবে না।