২০ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড দরপত্র! তবুও জিও-র আইপিও নিয়ে কেন তৈরি হলো ধোঁয়াশা?

আসন্ন ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং বা আইপিও-র আগে ভারতীয় শেয়ার বাজারে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিটাল শাখা ‘জিও প্ল্যাটফর্মস’। অফার চালুর আগেই বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের বিপুল দরপত্র বা বিড পেয়েছে সংস্থাটি। ফিডেলিটি, অ্যালিয়ান্স এবং ক্যাপিটাল গ্রুপের মতো বিশ্বমানের প্রথমসারির বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা এই মেগা অফারে অংশ নিতে ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এই আইপিও আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আসতে চলেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে সংস্থার মূল্যায়ন ১৭০ বিলিয়ন ডলার ধরা হলেও, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে তা সংশোধন করে প্রায় ১০৬ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১০.৩ লক্ষ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রত্যাশিত মূল্যসীমার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছালে এই আইপিও থেকে প্রায় ৩০,২০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে পারে জিও, যা বিগত সমস্ত রেকর্ড ভেঙে ভারতের ইতিহাসে সর্বকালের বৃহত্তম আইপিও-তে পরিণত হবে।
তবে এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক সাড়া মিললেও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের একাংশের মধ্যে কিছু বিষয়ে কিছুটা দ্বিধা ও অসন্তোষ কাজ করছে। আকাশ আম্বানির নেতৃত্বে বিশ্বজুড়ে রোড শো এবং হংকং, লন্ডন ও নিউইয়র্কের বড় বড় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠকের পর জিও-কে কেবল একটি ঐতিহ্যবাহী টেলিকম অপারেটর হিসেবে নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তি ও ডিজিটাল পরিকাঠামো প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তা সত্ত্বেও, টেলিকম খাতের ক্যাশ ফ্লো, প্রতি ব্যবহারকারী পিছু গড় আয় (ARPU), ৫জি থেকে রিটার্ন এবং কানেক্টিভিটির বাইরে গিয়ে লাভজনক ডিজিটাল পরিষেবা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে দীর্ঘমেয়াদি লাভ তুলে আনার ক্ষমতা নিয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পেতে চান বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।
উল্লেখ্য, এই আইপিও সম্পূর্ণভাবে একটি ফ্রেশ ইস্যু হতে চলেছে, যার অর্থ মেটা, গুগল বা মোবাদালার মতো বিদ্যমান কোনো বড় বিনিয়োগকারী এই দফায় তাঁদের শেয়ার বিক্রি করছেন না এবং সংগৃহীত সমস্ত অর্থ সরাসরি জিও প্ল্যাটফর্মসের কোষাগারেই জমা হবে। আগামী দিনে অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরই এই মেগা আইপিও ঘিরে বাজারের আসল চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।