উৎসবের মরসুমে স্তব্ধ হবে দিল্লি? রাহুল গান্ধীর কাছে হাত জোড় করে বিস্ফোরক আবেদন ব্যবসায়ীদের!

উৎসবের মরসুমে রাজধানীর সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের বিরাট আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং সিজেপি-র (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের কাছে বিশেষ আর্জি জানাল ‘ইন্দ্রপ্রস্থ রেনেসাঁ ট্রাস্ট’। উৎসবের দিনগুলিতে দিল্লিতে চলমান রাস্তা অবরোধ ও বিক্ষোভের কারণে যাতে বাজার ব্যবস্থা ভেঙে না পড়ে, তার জন্য আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সমস্ত প্রতিবাদ কর্মসূচি স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
ট্রাস্টের সভাপতি সুরেন্দ্র কুমার গুপ্ত জানিয়েছেন, ভারতে নবরাত্রি বা করবা চৌথের পর ধনতেরাস, দীপাবলি, গোবর্ধন পূজা, ভাই দুজ, ছট পূজা, কার্তিক পূর্ণিমা এবং গুরু নানক জয়ন্তীর মতো পর পর বড় বড় উৎসব আসছে। এই সময় সাধারণ মানুষ বিপুল পরিমাণে কেনাকাটা করতে বাজারে ভিড় জমান। কয়েক মাস আগে থেকেই দিল্লির ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত পণ্য কেনা, অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ এবং মোটা টাকার দোকান ভাড়া দিয়ে এই মরসুমের জন্য প্রস্তুতি নেন। কিন্তু লাগাতার রাজপথ অবরোধ ও যানজটের কারণে যদি ক্রেতারা দোকানেই পৌঁছাতে না পারেন, তবে এই ছোট ব্যবসায়ীদের জীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
সুশীল সমাজের তরফ থেকে সুরেন্দ্র কুমার গুপ্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, “গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকার সকলেরই রয়েছে, কিন্তু সেই অধিকারের সাথে সামাজিক দায়িত্ববোধও যুক্ত। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ালে আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয় এবং সমাজের একাংশের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছায়।”
ট্রাস্টের পক্ষ থেকে রাহুল গান্ধী ও অভিজিৎ দীপকের কাছে আর্জি জানানো হয়েছে, যদি পুরোপুরি প্রতিবাদ স্থগিত করা সম্ভব নাও হয়, তবে আন্দোলনের স্থান বা পদ্ধতি এমনভাবে পরিবর্তন করা হোক যাতে সাধারণ যাত্রী, জরুরি পরিষেবা এবং কেনাকাটার জন্য খোলা বাজারগুলিতে কোনোপ্রকার বাধা বা প্রভাব না পড়ে। তবে এই আবেদনের পর বিরোধী শিবিরের তরফ থেকে কর্মসূচি স্থগিত রাখা নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।