‘ডিগ্রি শুধু সনদপত্র নয়, স্বপ্ন পূরণের মাধ্যম!’ সমাবর্তন মঞ্চে তরুণ প্রজন্মকে বড় বার্তা পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর

উচ্চশিক্ষা শেষ করে যাঁরা কর্মজীবনে পা রাখছেন, তাঁদের জন্য ডিগ্রি কেবল কাগজের কিছু সার্টিফিকেট বা সনদপত্র মাত্র নয়; বরং এটি জীবন ও স্বপ্নকে সত্যি করে তোলার এক শক্তিশালী মাধ্যম। পাঞ্জাবের আই.কে. গুজরাল পাঞ্জাব টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি (IKGPTU)-র চতুর্দশ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ঠিক এই কথাই জোর দিয়ে বললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। মঙ্গলবার আয়োজিত এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে ডিগ্রি তুলে দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত তরুণ গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী মান বলেন, শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পরই মূলত জীবনের আসল চ্যালেঞ্জ শুরু হয়। অর্জিত জ্ঞান এবং শিক্ষাকে কীভাবে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা হবে, সেটাই এখন তাঁদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি তথা ভারতরত্ন ড. এপিজে আব্দুল কালামের অনুপ্রেরণামূলক উৃতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “স্বপ্ন সেটাই যা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না, বরং জাগিয়ে রাখে।” শিক্ষার্থীদের কখনই নিজেদের স্বপ্নকে ম্লান হতে না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও দৃঢ় সঙ্কল্পের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।

পাঞ্জাবের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং তরুণ সমাজকে ধরে রাখা প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। তিনি জানান, অতীতে রাজ্যের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে যেভাবে পড়াশোনার সুবাদে বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, তা বর্তমান সরকারের কাছে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় ছিল। তাই পাঞ্জাবের স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং রাজ্যেই উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তোলা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এর ফলে তরুণ প্রজন্মকে আর বাধ্য হয়ে ভিন্‌রাজ্যে বা বিদেশে পাড়ি জমাতে হবে না, বরং তাঁরা নিজ রাজ্যেই নিজেদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে পারবেন।

এদিনের অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী হরজ্যোত সিং বেইনস সহ রাজ্যের একাধিক বিশিষ্ট প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। সমাবর্তন মঞ্চ থেকে নতুন প্রজন্মের এই পথচলাকে আরও সুগম করতে রাজ্য সরকার সবরকম পাশে থাকবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।