লখনউয়ে রহস্যমৃত্যু: চতুর্থ তলা থেকে ফেলে দেওয়া হলো ক্যাফে মালিক শিবা শর্মাকে? চাঞ্চল্যকর অভিযোগ মায়ের!

উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের হজরতগঞ্জ এলাকায় ২৮ বছর বয়সী ক্যাফে মালিক শিবা শর্মার রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একটি অভিজাত অ্যাপার্টমেন্টের চতুর্থ তলা থেকে নিচে পড়ে শিবার মৃত্যু হলেও, একে নিছক দুর্ঘটনা মানতে নারাজ তাঁর পরিবার। মৃতার মা রঞ্জনা শর্মা হজরতগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ শ্রদ্ধা দুবে, তাঁর বোন রশ্মি দুবে, চালক আদিল এবং অন্যান্য অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে রঞ্জনা শর্মা জানান, গত ৭ই অক্টোবর বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন শিবা। পরিবারের দাবি, গত চার মাস ধরে হজরতগঞ্জের বাসিন্দা শ্রদ্ধা দুবে তাঁর ছেলেকে নিজেদের সঙ্গে থাকতে এবং নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ও মানহানি করার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের জোরালো দাবি, শিবা নিজে থেকে চতুর্থ তলা থেকে পড়ে যাননি, বরং তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে নিচে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার রাতে রহস্য আরও ঘনীভূত হয় যখন গত ৯ই অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে শ্রদ্ধা দুবে ও তাঁর এক সঙ্গী ফোন করে জানান যে শিবা অসুস্থ এবং তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর কিছুক্ষণ পর চালক জানায় যে তাঁকে কিং জর্জ মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে (কেজিএমইউ) নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই খবর পেয়ে পরিবার দ্রুত হাসপাতালে ছুটে গেলেও অভিযুক্তরা দূর থেকে শিবা এবং অ্যাম্বুলেন্স দেখিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়। চিকিৎসকরা শিবা-কে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মৃতের মায়ের অভিযোগ, শিবার শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা এই মৃত্যুকে ঘিরে সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ নামধারী ও অজ্ঞাতপরিচয় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর درج করে ময়না তদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে। ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ খতিয়ে দেখছে এটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি কোনো গভীর ষড়যস্ত্র।