ইঞ্জিনিয়ার থেকে কীভাবে দেশের মোস্ট টকড ইউটিউবার? ধ্রুব রাঠির অজানা তথ্য ফাঁস!

শনিবার সকালে দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার আগেই গুরুগ্রাম থেকে দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তাঁর গ্রেফতারি ফের একবার তাঁকে নিয়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছে দেশজুড়ে। খবরের শিরোনামে থাকা এই হাইপ্রোফাইল ইউটিউবার ঠিক কীভাবে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দুনিয়া ছেড়ে ডিজিটাল মিডিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হয়ে উঠলেন, একনজরে দেখে নেওয়া যাক তাঁর সেই সুদীর্ঘ জার্নি ও শিক্ষাগত যোগ্যতার অজানা গল্প।

ধ্রুব রাঠির শিক্ষাগত যোগ্যতা: আজকের দিনে রাজনীতির জটিল সমীকরণ, অর্থনীতি কিংবা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের নানা খুঁটিনাটি সাবলীলভাবে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরলেও, ধ্রুব রাঠির পড়াশোনার ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত। তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিটেক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানি পাড়ি দেন এবং সেখানকার নামী প্রতিষ্ঠান ‘কার্লসরুহে ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’ (KIT) থেকে রিনিউয়েবল এনার্জি বা নবায়নযোগ্য শক্তির ওপর স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি লাভ করেন। শুধু এখানেই থেমে থাকেননি, তাঁর নিজের ওয়েবসাইট অনুযায়ী পরবর্তীতে অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানেও স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। টেকনোলজির সঙ্গে সমাজবিজ্ঞান ও রাজনীতির এই মেলবন্ধনই পরবর্তীতে তাঁর ভিডিওর মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

প্রথম ভিডিও এডিট করতেই কেটেছিল দু’মাস: ২০১৪ সালে জার্মানিতে পড়াশোনা করার সময়ই ইউটিউব দুনিয়ায় পা রাখেন ধ্রুব রাঠি। প্রথম দিকে রাজনৈতিক কোনো বিষয় নয়, স্রেফ ভ্রমণ সংক্রান্ত বা ট্রাভেল ভ্লগ বানাতেন তিনি। আইফোন ৫এস দিয়ে শ্যুট করা তাঁর সেই প্রথম ভিডিও এডিট করতেই নাকি দু’মাসের বেশি সময় লেগেছিল! এরপর ২০১৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি প্রথম কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষণমূলক ভিডিও আপলোড করেন। ব্যস, আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে তাঁর এই ধারার ভিডিওগুলি তরুণ প্রজন্মের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

একা হাতে শুরু, আজ গ্লোবাল স্টার: ২০২০ সাল পর্যন্ত নিজের ভিডিওর স্ক্রিপ্ট রাইটিং, রিসার্চ থেকে শুরু করে এডিটিংয়ের সমস্ত কাজ নিজেই একা সামলাতেন ধ্রুব। পরবর্তীতে কাজের পরিধি বাড়ায় তিনি একটি ডেডিকেটেড টিম তৈরি করেন। ২০২৩ সালে তাঁর এই অনন্য সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ টাইম (Time) ম্যাগাজিনের মর্যাদাপূর্ণ ‘নেক্সট জেনারেশন লিডার্স’ তালিকার স্থান পান তিনি। প্রথাগত ডিগ্রির গণ্ডি পেরিয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে কীভাবে নিজেদের কেরিয়ার সফলভাবে গড়ে তোলা যায়, ধ্রুব রাঠির এই জীবনঝুলি তার এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ।