সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইকের লোভে প্রাণসংশয়! ঐতিহ্যবাহী টয়ট্রেন দুর্ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রশাসন

দার্জিলিংয়ের পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সংকীর্ণ পথ ধরে ধোঁয়া উড়িয়ে এগিয়ে চলা হেরিটেজ টয়ট্রেনকে কেন্দ্র করে ঘটে গেল মারাত্মক এক দুর্ঘটনা। রিলস বানানো এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও তোলার অদম্য উন্মাদনায় এক পর্যটকবাহী গাড়ি টয়ট্রেনের একেবারেই বিপদসীমার মধ্যে চলে আসে। চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে চারচাকা গাড়িটির ঘষা লাগার পর সেটি সজোরে ধাক্কা মারে রাস্তার পাশে থাকা একটি স্কুটারকে। দুর্ঘটনায় স্কুটারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং তাতে থাকা দম্পতি রাস্তায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও বিতর্কিত হয়ে ওঠে যখন অভিযুক্ত গাড়িচালক নিজের গাফিলতি ঢাকতে ট্রেনচালকের বিরুদ্ধে ‘রং সাইডে’ ট্রেন চালানোর অদ্ভুত ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলেন। তবে পুলিশি তদন্ত এবং গাড়ির ভেতর থেকে তোলা সোশাল মিডিয়ার ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে আসল সত্য সামনে আসে। স্পষ্ট দেখা যায়, ভিডিও তোলার জন্যই চালক গাড়িটিকে ট্রেনের বিপজ্জনকভাবে কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং অবৈধভাবে পার্কিংয়ের চেষ্টা করছিলেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করেছে এবং চালকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের (DHR) ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানান, “টয়ট্রেন দার্জিলিংয়ের গর্ব। রিলস বানানোর চক্করে গাড়ি চালানো বা জানালা দিয়ে মুখ ঝুঁকিয়ে ভিডিও করা অত্যন্ত জীবনঘাতী। এই দুর্ঘটনায় চরম গাফিলতি স্পষ্ট। অবৈধ পার্কিং ও ট্র্যাফিক নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছি।” পাহাড়ে পর্যটক ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার বাফার জোন ও ট্র্যাফিক নজরদারি বাড়ানোর দাবি জোরালো হচ্ছে।