ডাল-ভাত জোগাড় করতেই ঘাম ছুটছে মধ্যবিত্তের! এক লাফে কত বাড়ল মুদ্রাস্ফীতি? জেনে নিন

দেশের খুচরো বাজারে মুদ্রাস্ফীতির হার ফের একবার সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমান সময়ে সংসারের বাজেট সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে দেশের অধিকাংশ পরিবারকে। খাদ্য ও পানীয় থেকে শুরু করে পোশাক, পড়াশোনার সামগ্রী এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সমস্ত জিনিসের খরচ লাগাতার বেড়েই চলেছে। কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রক (MoSPI)-এর সদ্য প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার আগস্ট মাসের ৪.৮৩ শতাংশ থেকে লাফিয়ে বেড়ে সেপ্টেম্বরে ৫.৫৪ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। বিগত প্রায় ২৩ মাসের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতির হার, যার জেরে নাভিশ্বাস উঠেছে আমজনতার।

সরকারি পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, সেপ্টেম্বরে খুচরো বাজারে মুদ্রাস্ফীতি ০.৭১ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে। বিশেষ করে শাকসবজি যেমন পেঁয়াজ, রসুন ও লেবুর দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় হেঁশেলে আগুন লেগেছে। সরকারি তথ্য জানাচ্ছে, সেপ্টেম্বরে পেঁয়াজের বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার এক লাফে ১০৮.০৯ শতাংশে পৌঁছে গেছে, যা আগস্ট মাসে ছিল মাত্র ৪৮.৭৮ শতাংশ। অন্যদিকে, রসুনের মূল্যস্ফীতির হার আগস্টের ৪৩৬০ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪.৬২ শতাংশে। পাশাপাশি লেবুর মূল্যস্ফীতি ১৫.১৫ শতাংশ থেকে উল্লম্ফন ঘটিয়ে ৩৬.৪১ শতাংশ হয়েছে। তবে কিছুটা স্বস্তির বিষয় হলো, গত বছরের তুলনামূলক বিচারে আলুর মূল্যস্ফীতির হার ছিল -১১.৫০ শতাংশ এবং টমেটোর হার ছিল -৮.৬২ শতাংশ। আদার মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৬২.৮৫ শতাংশে নেমেছে।

মুদ্রাস্ফীতির এই তীব্র আঘাত সবচেয়ে বেশি পড়েছে শহর অঞ্চলের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায়। সেপ্টেম্বরে গ্রামীণ খুচরো মুদ্রাস্ফীতি রেকর্ড গড়ে ৬.০৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যেখানে শহুরে মুদ্রাস্ফীতি রয়েছে ৪.৮৮ শতাংশে। শুধু তাই নয়, গ্রামীণ এলাকায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি সরাসরি ৮.০৬ শতাংশে ঠেকেছে, অথচ শহরাঞ্চলে তা ৭.১৮ শতাংশ। এর অর্থ স্পষ্ট, ক্রমবর্ধমান খাদ্যপণ্যের এই দাম বৃদ্ধির ফলে গ্রামীণ পরিবারগুলো শহরাঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।

মুদ্রাস্ফীতির এই ধাক্কা শুধু শাকসবজি বা খাদ্যপণ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। পড়াশোনার খরচও নতুন করে চিন্তায় ফেলেছে অভিভাবকদের, যেখানে মুদ্রাস্ফীতির হার ৩.৯৪ শতাংশ। পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রীর ক্ষেত্রে এই হার ৩.৯৩ শতাংশ। সবচেয়ে বড় চমক দেখা গেছে রেস্তোরাঁ এবং আবাসন পরিষেবার ক্ষেত্রে, যেখানে মুদ্রাস্ফীতির হার পৌঁছেছে ৯.৩৬ শতাংশে। এর ফলে সাধারণ মানুষ কোথাও ঘুরতে গেলে বা বাইরে খাওয়া-দাওয়া করলে পকেটে টান পড়ছে নিশ্চিতভাবেই। সার্বিক এই পরিস্থিতিতে বাজেট সামলানোই এখন দেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।