জগদ্ধাত্রী থেকে দুর্গোৎসব! ১৮৯৬ সালে শুরু হওয়া সেন বাড়ির পুজোয় রয়েছে কোন চমকপ্রদ ইতিহাস?

মুর্শিদাবাদের বহরমপুর শহরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম হল সেন বাড়ির দুর্গোৎসব। প্রায় দেড়শো বছরের দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্য বুকে নিয়ে আজও সমান জাঁকজমকে পূজিতা হন দেবী দুর্গা। আধুনিকতার রমরমা থাকলেও প্রাচীন রীতি, কৃত্য এবং সাবেকিয়ানার বিন্দুমাত্র পরিবর্তন ঘটেনি সেন পরিবারে। দেবীপক্ষের সূচনা হতেই গোটা পরিবারে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে, তবে এই পুজোকে ঘিরে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় সুদূর রথযাত্রার দিন থেকেই।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, সেন বাড়ির দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক দীর্ঘ ধর্মীয় ঐতিহ্য। একসময়ে এই পরিবারে দেবী জগদ্ধাত্রী পূজার প্রচলন ছিল। পরবর্তীতে ১৮৯৬ সালে অবিভক্ত বাংলার সাব জজ রাধাকৃষ্ণ সেন প্রথম সেন বাড়িতে দুর্গাপুজোর গোড়াপত্তন করেন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় দেড়শো বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলে আসছে এই দেবী আরাধনা। প্রাচীন পঞ্জিকা ও রীতি মেনেই রথযাত্রার দিন কাঠামো পুজো সম্পন্ন হয়। এরপর প্রতিমা নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু হলেও ভাদ্র মাসে তা সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তীতে আশ্বিন মাসে ফের প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু হয় এবং মহালয়ার শুভ দিনে দেবীর চক্ষুদান সম্পন্ন হয়। যুগ যুগ ধরে এই সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই এগিয়ে চলেছে সেন বাড়ির পুজো।

এই পুজোর একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল পরিবারের নারীদের বিশেষ ভূমিকা। প্রতি বছর বাড়ির মহিলাদের অনুমতি ও সম্মতি নিয়েই পুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। পারিবারিক ঐতিহ্য ও অনুশাসন রক্ষায় তাঁদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ পুজোকে এক অনন্য মাত্রা দিয়েছে। এছাড়া সেন বাড়িতে বৈষ্ণব মতে দেবী দুর্গার পুজো হয়ে থাকে। সেই কারণে এখানে কোনো প্রকার পশুবলির প্রথা নেই। তার বদলে মহা অষ্টমীর বা নবমীর দিন বিশেষ রীতি মেনে আখ ও চালকুমড়ো বলি দেওয়ার প্রথা চলে আসছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে চলা এই সমস্ত অভিনব আচার-অনুষ্ঠান ও বৈষ্ণবীয় ভাবধারা বহরমপুরের সেন বাড়ির দুর্গাপুজোকে সাধারণ মানুষের কাছে এক আলাদা ও মর্যাদাপূর্ণ স্থানে পৌঁছে দিয়েছে।