টালা প্রত্যয়ে ঠাকুর দেখতে গেলে দিতে হবে ২১৪ টাকা! চতুর্থীর আগেই ভাইরাল ভিডিয়োয় তুমুল শোরগোল

রাজ্য সরকারের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, দুর্গাপুজোয় কোনও মণ্ডপ দর্শনার্থীদের কাছ থেকে ঠাকুর দেখার জন্য টিকিটের নামে কোনও অর্থ বা প্রবেশমূল্য নিতে পারবে না। কিন্তু সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মহাষষ্ঠী বা চতুর্থীর প্রাক্কালেই কলকাতার এক নামী পুজোর বিরুদ্ধে উঠল বিস্ফোরক আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ। কাঠগড়ায় শহরের অন্যতম হেভিওয়েট পুজো কমিটি ‘টালা প্রত্যয়’। সুস্মিতা দে নামের এক ক্ষুব্ধ দর্শনার্থীর সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা একটি ভিডিয়ো ঘিরে রাজ্যজুড়ে এই মুহূর্তে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক।
ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওয় সুস্মিতাদেবীর বিস্ফোরক দাবি, চতুর্থীর আগেই টালা প্রত্যয় মণ্ডপে ঢুকতে গেলেই দর্শনার্থীদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ২১৪ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। প্রথমে এন্ট্রি ফি বাবদ সেই অর্থ জমা দিতে হচ্ছে এবং অনলাইনে স্ক্যান করে টাকা পেমেন্ট করার পরেই মণ্ডপে প্রবেশের অনুমতি মিলছে। এই অভিযোগ সামনে আসতেই তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে নেটপাড়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়ে যায়। সরকারি নির্দেশিকার এমন প্রকাশ্য লঙ্ঘন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, তেমনই বিরোধী শিবিরও এই সুযোগে সরকারকে আক্রমণ করতে আসরে নেমেছে।
এই প্রসঙ্গে এলাকার বিজেপি বিধায়ক ঋতেশ তিওয়ারি এক বিস্ফোরক দাবি করে বলেন যে, এই ঘটনার নেপথ্যে শাসকদলের প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন ঘনিষ্ঠ ধ্রুবজ্যোতি বসুর প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে। টিকিট বিক্রির তীব্র নিন্দা করে তিনি আরও জানান, “টিকিট বিক্রির পক্ষে আমরা কেউ নেই, এটা সম্পূর্ণ অন্যায়। আজকের দিনে পুজোয় কলা-কুশলীদের ইনভলমেন্ট এবং বাজেট অনেক বেড়েছে। শিল্পীদের যে মোটা অংকের পারিশ্রমিক দেওয়া হয়, তা তোলার জন্য পুজো কমিটি নিজেদের মতো করে পথ বেছে নেয়।” তবে তিনি এও দাবি করেন যে, মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বোধনের আগে পর্যন্ত প্রিভিউ শো চলেছিল এবং ইভেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি হস্তক্ষেপ করে তা বন্ধ করিয়েছেন বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পুজো উদ্যোক্তা শুভঙ্কর সাহা দাবি করেছেন যে, বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, ঠাকুর দেখার জন্য কোনও এন্ট্রি ফি বা টাকা নেওয়া হচ্ছে না। প্রখ্যাত শিল্পী সুশান্ত পালের ভাবনা ও কাজের একটি বিশেষ মিউজিক বা থিম অ্যাপের মাধ্যমে ডাউনলোড করার জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেটি দর্শনার্থীদের ফিল করার জন্য বলা হয়েছিল এবং ডাউনলোডের জন্য একটি ন্যূনতম চার্জ নেওয়া হয়েছে। যার বিনিময়ে দর্শনার্থীদের দুটি করে বিশেষ পাসও দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, টাকা দিয়ে কাউকে মণ্ডপে ঢোকানো হচ্ছে না এবং আগামী ১৫ তারিখ থেকে সাধারণ মানুষের জন্য মূল এন্ট্রি গেট ও লাইন পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে। পুজো শুরুর আগেই এই আর্থিক কেলেঙ্কারি ও টিকিট বিতর্ককে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে উত্তপ্ত তিলোত্তমার পুজো মহল।