“গ্রেফতার করা হোক!” প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে সরাসরি রাষ্ট্রপতির দরবারে ইন্ডি জোট, সংসদ ভবনে জরুরি বৈঠক

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে চলমান তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে অবশেষে দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাক্ষাতের অনুমতি পেল বিরোধী ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোট। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ রাতেই অর্থাৎ ঠিক রাত ৮টায় রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করবেন বিরোধী দলগুলির শীর্ষ নেতৃত্ব। এই প্রতিনিধিদলে মোট ১০ জন হেভিওয়েট বিরোধী নেতা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি এই প্রতিনিধিদলে থাকছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তেজস্বী যাদব এবং সুপ্রিয়া সুলে-সহ অন্যান্য বর্ষীয়ান নেতারা। রাষ্ট্রপতি সাক্ষাতের চূড়ান্ত রণকৌশল এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ ঠিক করতে আজ দুপুর ৩টে নাগাদ সংসদ ভবনে এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠকে বসছেন ইন্ডি জোটের সাংসদরা।

এর আগে গত ৭, ৮ ও ৯ অক্টোবর—এই তিন দিনের মধ্যে যেকোনো একদিন সাক্ষাতের সময় চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন জানিয়েছিল বিরোধী শিবির। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের নির্দেশমতো ১০ জন নেতার একটি নির্দিষ্ট নামের তালিকাও জমা দেওয়া হয়েছিল, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাহুল গান্ধী এবং এমএ বেবির নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে গতকাল পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো সময়ের সবুজ সংকেত না মেলায় বিরোধীদের অন্দরে কিছুটা অনিশ্চয়তা ও সংশয় তৈরি হয়েছিল। তা সত্ত্বেও আজ সময় মেলায় বিরোধীরা অত্যন্ত আশাবাদী। গতকালই বিরোধী সাংসদরা দিল্লির ঐতিহাসিক রাজঘাটে গিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও আইনি পদক্ষেপের দাবি জোরালো করেছিলেন। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেফতারের দাবি তুলে জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন। আজকের এই রাষ্ট্রপতি সাক্ষাতকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।