‘কখনোই না বলা উচিত নয়!’ দৃশ্যমের শেষ অধ্যায় নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিলেন খোদ বিজয় সালগাঁওকর ওরফে অজয়!

বলিউড বক্স অফিসে একের পর এক নতুন রেকর্ড গড়ে চলেছে অজয় দেবগন অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘দৃশ্যম ৩: দ্য কনক্লুশন’। মুক্তির প্রথম দিন থেকেই দর্শকদের মনে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি করা এই থ্রিলার সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী ইতিমধ্যেই ৩৮৩.৬০ কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের ব্যবসা করে ফেলেছে। ছবির মূল আকর্ষণ স্যামের সেই আলোচিত অন্তর্ধান এবং আজও তার দেহাংশ বা হাড় খুঁজে না পাওয়ার রহস্য। তিন তিনটি পর্ব পেরিয়ে গেলেও পুলিশের ব্যর্থতা এবং বিজয় সালগাঁওকরের নিখুঁত পরিকল্পনা দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছে। এই রহস্যের চূড়ান্ত এবং অদম্য সমাপ্তি টানতেই নির্মাতারা এই পর্বের নামকরণ করেছিলেন ‘দ্য কনক্লুশন’। তবে ছবির ঐতিহাসিক ও অভাবনীয় সাফল্যের পর থেকেই বলিপাড়ায় জোর জল্পনা শুরু হয়েছে যে, নির্মাতারা কি তবে এর চতুর্থ পর্বও আনতে চলেছেন?
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অজয় দেবগনকে সরাসরি ‘দৃশ্যম ৪’-এর সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি রহস্য বজায় রেখে বলেন, “আপাতত, এখানেই সমাপ্তি। আমি ভবিষ্যৎবাণী করতে পারি না। কিন্তু সিনেমার জগতে, ‘কখনোই না বলা উচিত নয়।’ যাইহোক, সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছিল যে এটাই শেষ, তাই আপাতত এটাই শেষ।” অজয়ের এই চতুর ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য যে ভক্তদের মনে নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। এর আগে মোহনলালের মালয়ালম সংস্করণের ক্ষেত্রে তৃতীয় পর্ব মুক্তির পাশাপাশি চতুর্থ পর্বের আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও করে দেওয়া হয়েছিল। এমনকি মালয়ালমে ‘দৃশ্যম ৪’-এর কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। যদিও হিন্দি সংস্করণের নির্মাতারা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, এই তৃতীয় কিস্তির মাধ্যমেই তাঁরা বিজয় সালগাঁওকরের গল্পের ইতি টানবেন এবং বিশেষ করে হিন্দি সংস্করণের চিত্রনাট্য মূল দক্ষিণী ছবি থেকে অনেকটাই আলাদা রাখা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ‘দৃশ্যম’ ছবিটিতে ২ ও ৩ অক্টোবরের সেই বিখ্যাত মারপ্যাঁচ দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছিল এবং ছবিটি বক্স অফিসে সুপারহিট হয়েছিল। এরপর ২০২২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দৃশ্যম ২’ ব্লকবাস্টার হিট তকমা পেয়ে বিশ্বব্যাপী ৩৪৫ কোটি টাকারও বেশি সংগ্রহ করেছিল। আর এবার সেই সমস্ত রেকর্ড ভেঙে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী ৩৮০ কোটির গণ্ডি পেরিয়ে ‘দৃশ্যম ৩’ এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সর্বকালের সবচেয়ে সফল ছবির মুকুট পরেছে। বিজয় সালগাঁওকরের চতুর বুদ্ধিমত্তা এবং গোয়েন্দা জালে পুলিশের নাকানিচুবানি খাওয়ার এই গল্প ভারতীয় দর্শকদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, অজয়ের এই ‘কখনোই না বলুন না’ মন্তব্যের পর নির্মাতারা ভবিষ্যতে দর্শকদের জন্য আরও কোনো চমক নিয়ে আসেন কি না।