“আম্বানিই কি ভারতের আসল বস?” স্টারলিঙ্ক বিতর্কে ইলন মাস্কের বোমা ফাটানো টুইটে থমকে গেল দেশ!

ভারতের বাজারে আমেরিকান ধনকুবের ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা ‘স্টারলিঙ্ক’-এর এন্ট্রি ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব এখন চরমে। গত পাঁচ বছর ধরে সমস্ত নিয়মকানুন ও আইন মেনে চলা সত্ত্বেও ভারতে স্টারলিঙ্কের বাণিজ্যিক পরিষেবা চালুর অনুমোদনে লাগাতার বিলম্ব হওয়ায় প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ইলন মাস্ক। সরাসরি দেশের শিল্পমহল ও ধনকুবের মুকেশ আম্বানিকে নিশানা করে মাস্ক এক্স (পূর্বের টুইটার) হ্যান্ডেলে বিস্ফোরক প্রশ্ন তুলেছেন, “আম্বানিই কি ভারতের আসল বস?” তাঁর অভিযোগ, দেশের কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখতে এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতেই স্টারলিঙ্কের প্রবেশাধিকার আটকে দিচ্ছে, যা সরাসরি ভারতীয় গ্রাহকদের স্বার্থের পরিপন্থী।

মাস্কের এই মন্তব্যের পরই আসরে নেমেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। মাস্ককে ব্যঙ্গ করে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “ভারতে স্বাগতম, ইলন… এবার অন্য ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করুন।” রাহুল গান্ধীর এই বিস্ফোরক মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী শিবির ও মাস্কের তোপের মুখে পড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কেন্দ্র সরকারও। কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া কংগ্রেসের দ্বিমুখী নীতি ও সমালোচনাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেছেন, “কংগ্রেসের কোনো স্পষ্ট দিশা নেই। তারা একদিকে যাঁকে লাইসেন্স না দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে আবার সেই একই ব্যক্তির দলের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট করে বসে আছে!”

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, স্টারলিঙ্ককে নিয়ে কোনো রকম বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করা হয়নি। যোগাযোগ মন্ত্রকের সূত্র অনুযায়ী, স্টারলিঙ্ক ছাড়াও জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস এবং ওয়ানওয়েব ইন্ডিয়া কমিউনিকেশনস—এই তিনটি সংস্থাই ইতোমধ্যে তাদের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স অর্জন করেছে। তবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর আগে সমস্ত সংস্থাকেই নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ছাড়পত্র, কঠোর নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং সরকারের রাজস্ব-ভিত্তিক স্পেকট্রাম বরাদ্দের আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। এই সমস্ত শর্ত পূরণ হলেই কেবল তারা ভারতে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করতে পারবে। একদিকে মাস্কের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতাদের আক্রমণ ও সরকারের সাফাই—সব মিলিয়ে স্টারলিঙ্কের এন্ট্রি ঘিরে তৈরি হওয়া এই নজিরবিহীন বিতর্ক আগামী দিনে কোন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।