যন্তর মন্তরে ধুন্ধুমার: জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে বিরোধীদের মহা-অভিযান, রাজধানীতে নামল ২২১ কোম্পানি আধা-সেনা!

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ‘স্পেশ্যাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন’ (SIR) বাতিল করার দাবিতে শনিবার দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-এর যৌথ মহা-বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লি এখন কার্যত একটি দুর্গে পরিণত হয়েছে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারার অধীনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দিল্লি পুলিশ এই প্রতিবাদের কোনও অনুমতি দেয়নি। উল্টে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অ্যাপ-ভিত্তিক ক্যাব চলাচলে কড়াকড়ি, অস্থায়ী ডিটেনশন সেন্টার তৈরি এবং নজিরবিহীন সংখ্যার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিল্লি পুলিশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করতে মোতায়েন করা হয়েছে ২৬,০০০-এরও বেশি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) কর্মী। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পর রাজধানীতে এটিই সবচেয়ে বড় পুলিশ ও আধা-সেনা মোতায়েন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে CRPF, BSF, SSB, ITBP এবং CISF-এর অন্তত ১১০টি অতিরিক্ত কোম্পানি দিল্লিতে পাঠানো হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর, পশ্চিমবঙ্গ এবং ছত্তীসগড় থেকে আসা এই নতুন বাহিনী দিল্লির পূর্ববর্তী ১১১টি কোম্পানির সঙ্গে যোগ দিয়েছে। মোট ২২১টি CAPF কোম্পানি এখন পুরো দিল্লির নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা সামলাচ্ছে।
কেবল ছাত্র-যুবরাই নন, একাধিক প্রভাবশালী সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনও শনিবারের রাজপথ অভিযানে সামিল হয়েছে। কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব রাষ্ট্রপতি ভবন অভিযানের আর্জি জানানোর পর শনিবারের যন্তর মন্তর কর্মসূচিতেও নিজেদের সংহতি প্রকাশ করেছেন। অ্যাপ-ক্যাব ও যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের কারণে সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি হলেও, জ্ঞানেশ কুমার বিরোধী এই আন্দোলন দিল্লির রাজপথকে অভূতপূর্ব রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। প্রশাসন যেকোনো মূল্যে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।