জলবায়ু পরিবর্তনের করাল গ্রাস! বরফ ও ক্রিলের অভাবে অ্যান্টার্কটিকার দুর্গম দ্বীপে ধ্বংসের মুখে পেঙ্গুইন সাম্রাজ্য!

অ্যান্টার্কটিকার নিকটবর্তী একটি প্রত্যন্ত ও দুর্গম আগ্নেয় দ্বীপ থেকে চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আকাশপথে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। একসময়ে বিশ্বের বৃহত্তম পেঙ্গুইন কলোনির আবাসস্থল হিসেবে খ্যাত জাভোডোভস্কি দ্বীপটি এখন তার সেই ঐতিহ্যবাহী খেতাব হারাতে বসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১১ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে এই দ্বীপে চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনের ব্যবহৃত বাসার সংখ্যা এক লাফে ৬৩ শতাংশ কমে গেছে। গবেষক দলের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং খাদ্যের তীব্র সংকটই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ।

দক্ষিণ স্যান্ডউইচ দ্বীপপুঞ্জের অন্তর্ভুক্ত এই বরফাবৃত অঞ্চলে ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভে (বিএএস)-এর গবেষকরা ড্রোন, স্যাটেলাইট চিত্র এবং ট্র্যাকিং ডিভাইসের সাহায্যে ১৫ দিন ধরে সমীক্ষা চালান। বিজ্ঞানীরা জানান, উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ায় চিনস্ট্র্যাপ পেঙ্গুইনদের প্রধান খাদ্য ক্রিলগুলি আরও দক্ষিণের ঠান্ডার দিকে সরে গেছে। এদিকে দক্ষিণে সামুদ্রিক বরফের আধিক্য এবং বাসা বাঁধার উপযুক্ত পরিবেশের অভাবে পাখিরা চরম খাদ্যাঙ্কেটের মুখে পড়েছে। এর পাশাপাশি দ্বীপের সক্রিয় আগ্নেয়গিরি ‘মাউন্ট কারি’-র উপস্থিতি এবং হাম্পব্যাক তিমির সঙ্গে খাদ্যের প্রতিযোগিতাও তাদের অস্তিত্বকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে। তবে এই বিপর্যয়ের মাঝেও একটি আশ্চর্যজনক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। চিনস্ট্র্যাপের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেলেও, আরও বিস্তৃত খাদ্যাভ্যাস ও অভিযোজন ক্ষমতার কারণে দ্বীপটিতে ম্যাকরনি পেঙ্গুইনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।