‘বাংলাদেশে জিহাদিদের বাড়বাড়ন্তের পেছনে কাদেরহাত?”-বোমা ফাটালেন তসলিমা নাসরিন

বাংলাদেশে উগ্রপন্থী ও মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলির ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং রাষ্ট্রীয় মদত নিয়ে সরাসরি কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। বুধবার কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রেখেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিবেশী দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তবে একইসঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামী দিনেও অটুট থাকবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেছেন।
সরকারের মদতেই বাড়ছে জিহাদি শক্তি:
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তসলিমা সরাসরি অভিযোগ করেন যে, বর্তমান সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদতের ফলেই বাংলাদেশে জিহাদি ও জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির দৌরাত্ম্য লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। তাঁর স্পষ্ট কথা, দেশকে যদি একটি সুস্থ, সুন্দর ও সভ্য রাষ্ট্রে পরিণত করতে হয়, তবে এই ধর্মান্ধ ও উগ্রপন্থী শক্তির বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই হবে। তাদের শিকড় সমূলে উৎপাটন করা ছাড়া দেশের সামনে আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।
তারেক রহমানের ভারত সফর ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ:
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এবং এর জেরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমীকরণ কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তসলিমা জানান যে পরিস্থিতি এখনও যথেষ্ট অনিশ্চিত। তাঁর মতে, যেভাবে বাংলাদেশে জামাত-ই-ইসলামিকে রাজনৈতিকভাবে তোয়াজ বা মদত দেওয়া হচ্ছে এবং উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে, তাতে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেবে তা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা মুশকিল। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সরকার শেষ পর্যন্ত কট্টরপন্থীদের বিরুদ্ধে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে বলেই তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, জুলাই মাসের পর এটি তাঁর দ্বিতীয় কলকাতা সফর। এদিনের প্রতিক্রিয়ায় তসলিমা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও সাহিত্যচর্চা এবং প্রগতির লড়াই জারি রাখতে তিনি বদ্ধপরিকর।