প্রবাসের বুকেও খাস কলকাতার আমেজ! ভিনরাজ্যে দুর্গাপুজো নিয়ে কী আবেগপ্রবণ বার্তা দিলেন হায়দরাবাদের বাঙালি বাবু?

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো মানেই এক অন্য আবেগ, এক অমোঘ টান। হিন্দু পঞ্জিকার সপ্তম মাস আশ্বিন মাসে ঐতিহ্যগতভাবে পালিত এই মহোৎসব কেবল পশ্চিমবঙ্গ বা অসমেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাঙালিদের হৃদয় জুড়েও তার দ্যুতি ছড়ায়। শরৎকালের স্নিগ্ধ বাতাসে মাঠে মাঠে কাশফুলের দোলা আর মহালয়ার ভোরের সুর বাজতেই আপামর বাঙালির মন ছুটে যায় নাড়ির টানে। ছোট থেকে বৃদ্ধ—সবার মনেই তখন একটাই গুনগুনানি, ‘সাধ মিটিল না, আশা পুরিল না! আরও কিছুদিন যদি পুজোর আনন্দ পেতাম!’

কলকাতার রাজপথ থেকে মফস্বলের গলি—চতুর্থী ও পঞ্চমীর দিন থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড় শুরু হয়ে যায়। কেউ ঠাকুর ও থিম দেখে আনন্দ পান, কেউ আবার রাস্তায় মানুষের ঢল আর আড্ডায় মেতে ওঠেন। তবে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু কিংবা হায়দরাবাদের মতো বহুমাত্রিক শহরে বসবাসকারী প্রবাসী বাঙালিদের কাছে পুজো মানে শুধু প্রতিমা দর্শন নয়, বরং নিজেদের শিকড়কে ছুঁয়ে দেখা।

হায়দরাবাদের একটি নামী বাঙালি ক্লাবের কালচারাল সেক্রেটারি রাহুল নন্দী প্রবাসের পুজো নিয়ে নিজের গভীর অনুভূতির কথা শেয়ার করে জানান, “প্রবাসের পুজো মানে শুধুই পুজো নয়, এটি আমাদের শিকড়কে টিকিয়ে রাখার লড়াই। হায়দরাবাদের মতো বহুভাষিক শহরে যখন আমরা বাঙালিরা একত্রিত হই, তখন মণ্ডপের আলোয় শুধু প্রতিমাই জ্বলে ওঠে না, তার সঙ্গে থাকে শৈশবের নস্টালজিয়া, আড্ডা আর কলকাতা শহরের আদল।” ভিনরাজ্যে দিনরাত পরিশ্রম করে তিল তিল করে এই উৎসবকে সার্থক করে তোলার পেছনে থাকে নতুন প্রজন্মকে নিজেদের সংস্কৃতি ও বাঙালিয়ানার সঙ্গে যুক্ত রাখার এক আজীবন প্রয়াস।