দিল্লির রাজপথে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নতুন চাল! তেরঙ্গা হাতে ‘জন-আন্দোলনের’ হুঙ্কার রাহুলের!

দিল্লির রাজনৈতিক মানচিত্রে এবং রাজপথের আন্দোলনে এক বড় কৌশলগত পরিবর্তন আনল বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোট। শুধুমাত্র মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সীমাবদ্ধ না থেকে, আন্দোলনকে এবার একটি সর্বজনীন ও বৃহত্তর ‘গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ’ হিসেবে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার মধ্য দিল্লির বারখাম্বা রোড থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত প্রস্তাবিত ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বিশাল পদযাত্রাকে সফল করতে এবং এতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে শামিল করতে কোমর বেঁধে নেমেছে বিরোধী শিবির। ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মূলত এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। তবে গত কয়েকদিন ধরে দিল্লিতে আইনজীবী, ছাত্র সংগঠন এবং তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনকারীদের মতামত পর্যালোচনা করে নিজেদের কৌশল বদলালো বিরোধীরা। সোমবার বিরোধীদের রাজপথে নামার আগে কংগ্রেস সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধী একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে সুশীল সমাজ, অলাভজনক সংস্থা এবং সাধারণ মানুষকে এই গণ-আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এই পদযাত্রায় জোটের কোনো দলীয় পতাকা ব্যবহার করা হবে না। দলীয় পতাকার পরিবর্তে সমস্ত নেতা ও কর্মীদের শুধুমাত্র জাতীয় তেরঙ্গা পতাকা বহনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কংগ্রেস নেতৃত্বের মতে, আন্দোলনকে স্রেফ দলীয় রঙে চিহ্নিত করলে তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’ (Gen-Z) এবং নির্দলীয় নাগরিক সমাজ দূরত্ব বজায় রাখতে পারে। উপরন্তু, পূর্ববর্তী বিক্ষোভগুলোতে কংগ্রেসের পতাকার আধিক্য নিয়ে জোটের শরিকদের মধ্যে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল, তাও এড়ানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র মাধ্যমে সোচ্চার হওয়া তরুণদের ক্ষোভ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দাবিকে এক ছাতার তলায় এনে আন্দোলনটিকে ‘জন-আন্দোলন’-এর রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, বাম দলসহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সমস্ত শরিকরা নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের জাতীয় পতাকা হাতে নামানোর নির্দেশ দিয়েছে। দলীয় রাজনীতির উর্ধ্বে উঠে গণতন্ত্র রক্ষার এই ‘চলো দিল্লি’ আহ্বান রাজধানী রাজনীতিকে কতটা উত্তপ্ত করে, এখন সেটাই দেখার।