জ্ঞানেশের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ! রাজঘাট থেকে সোজা রাষ্ট্রপতি ভবন ঘেরাওয়ের ডাক ‘ইন্ডি’ জোটের

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (CEC Gyanesh Kumar) পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের আন্দোলন এবার এক নতুন মোড় নিয়েছে। নির্বাচন কমিশন ভবন ও যন্তর মন্তর অভিমুখে পূর্বনির্ধারিত মিছিল পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়ে যাওয়ার পর, বৃহস্পতিবার দিল্লির রাজঘাটে জড়ো হন ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের প্রায় ৩০০ জন সাংসদ। মহাত্মা গান্ধীর স্মারকে শ্রদ্ধা নিবেদন করে রাজঘাটেই ধর্নায় বসেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা এবং কে সি বেণুগোপালের মতো শীর্ষস্থানীয় বিরোধী নেতারা। রাজঘাটের এই অবস্থান কর্মসূচি থেকেই সোজা ‘রাষ্ট্রপতি ভবন’ অভিমুখে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছে বিরোধী জোট। তবে সূত্রের খবর, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সময় (Appointment) পাওয়া যায়নি।

রাজঘাটে জাতির জনকের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জানিয়ে কংগ্রেসের প্রবীণ মুখপাত্র পবন খেড়া স্পষ্ট ভাষায় জানান, “আমরা এখানে গান্ধীজির আশীর্বাদ ও লড়াইয়ের শক্তি নিতে এসেছি, যাতে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের সত্যাগ্রহ চালিয়ে যেতে পারি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ—সকলের যেন সুবুদ্ধির উদয় হয়। সিইসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমাদের এই অহিংস আন্দোলন অবিরাম চলবে।”

এদিকে বিরোধীদের এই মেগা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির জনপথ, সংসদ মার্গ, অশোকা রোড এবং রাজঘাট চত্বরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। প্রায় ৫,০০০ দিল্লি পুলিশ ও আধাসেনা জোয়ান মোতায়েন করার পাশাপাশি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মুখ ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরে ঐক্যের ছবি নিয়ে কিছুটা গুঞ্জনও তৈরি হয়েছে। বুধবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের ডাকা মধ্যাহ্নভোজ ও বিক্ষোভ মিছিলে লোকসভার ৩৭ জন সাংসদ বিশিষ্ট সমাজবাদী পার্টিকে (SP) অনুপস্থিত থাকতে দেখা যায়। দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ না করার কারণেই তারা এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়নি। সবমিলিয়ে, নির্বাচন কমিশন বনাম বিরোধী সংঘাত ঘিরে জাতীয় রাজধানীতে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে।