হুট করেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ? সুস্থ মানুষ কীভাবে মুহূর্তে ঢলে পড়ে মৃত্যুর কোলে, সতর্ক করলেন চিকিৎসকেরা!

প্রখ্যাত বর্ষীয়ান বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকরের অকালপ্রয়াণে আবারও শিরোনামে উঠে এল হৃদরোগের মতো মারাত্মক ঘাতক ব্যাধি। গোয়ায় অবস্থানকালীন হঠাৎ ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ (Cardiac Arrest)-এ আক্রান্ত হয়ে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বাহ্যিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ ও কর্মঠ একজন মানুষের হুট করে হৃৎপিণ্ডের ক্রিয়া থমকে যাওয়ার এই ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে গভীর আতঙ্ক ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
কোনো পূর্বলক্ষণ ছাড়াই হঠাৎ কেন স্তব্ধ হয়ে যায় হৃৎপিণ্ড? কোন গোপন বিপদগুলো মানুষ প্রতিনিয়ত অবহেলা করছেন? এই বিষয়ে টিভি৯-এর কাছে বিস্ফোরক তথ্য তুলে ধরে সতর্ক করেছেন বিখ্যাত মেদন্তা মূলচাঁদ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের অধ্যাপক ডঃ তরুণ কুমার।
হার্ট অ্যাটাক ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের তফাত
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের মূল কারণ লুকিয়ে থাকে ‘হার্ট অ্যাটাক’-এর মধ্যেই। সহজ ভাষায়, হার্ট অ্যাটাক হলো হৃৎপিণ্ডে রক্ত চলাচলের বাধা বা প্লাম্বিং সংক্রান্ত সমস্যা, আর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলো হৃৎপিণ্ডের ছন্দ বা ইলেকট্রিক্যাল গোলযোগ।
ডঃ তরুণ কুমার জানান, হার্ট অ্যাটাকের সময় শরীর কিছু সতর্কবার্তা দেয়, কিন্তু সিংহভাগ মানুষ তা সামান্য গ্যাস-অম্বল বা ক্লান্তি ভেবে উড়িয়ে দেন। চিকিৎসা না পেয়ে সেই হার্ট অ্যাটাকই কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রাণঘাতী ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’-এ রূপ নেয়। এই অবস্থায় দ্রুত রক্ত সঞ্চালন বজায় রাখতে ৩ থেকে ৫ মিনিটের মধ্যে জরুরি ‘সিপিআর’ (CPR) না দেওয়া গেলে আর জীবন বাঁচানো সম্ভব হয় না।
লুকানো বিপদ: নীরব হার্ট অ্যাটাক ও রক্তনালীতে কোলেস্টেরল
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, কোনো হৃদরোগের ইতিহাস না থাকা সত্ত্বেও একজন মানুষ কীভাবে হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের শিকার হন?
চিকিৎসকদের বক্তব্য, শরীরে নিঃশব্দে বাসা বাঁধা উচ্চ কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড এর প্রধান কারণ। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোর ফলে হৃদযন্ত্রের ধমনীতে রক্ত জমতে থাকে এবং ধীরে ধীরে ফলক (Plaque) তৈরি হয়ে পথ বন্ধ করে দেয়। কোনো বড় উপসর্গ ছাড়াই ঘটে যায় ‘সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক’, যা বুঝতে না পারাই ডেকে আনে মারাত্মক পরিণতি।
যে লক্ষণগুলো কখনোই অবহেলা করবেন না:
কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়া
সিঁড়ি ভাঙতে গিয়ে বা সামান্য পরিশ্রমে অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট
বুকে হালকা চাপ, অস্বস্তি বা ব্যথা
হঠাৎ হৃদস্পন্দন (Pulse Rate) অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া বা মাথা ঝিমঝিম করা
হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখার ৪টি সোনালী নিয়ম
১. নিয়মিত রক্তচাপ ও শর্করা পরীক্ষা: উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং ব্যাড কোলেস্টেরল হৃদরোগের নীরব অনুঘটক। নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা করিয়ে এগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
২. ধূমপান ও তামাক সম্পূর্ণ ত্যাগ: তামাকজাত দ্রব্য রক্তনালীগুলোকে শক্ত ও সংকুচিত করে দেয়, যা ব্লকেজের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
৩. এক জায়গায় বসে থাকা বন্ধ করুন: অলস জীবনযাত্রা ও দীর্ঘ সময় ডেস্কে বসে কাজ করা স্থূলতা ও হৃদরোগ ডেকে আনে। শরীরকে সচল ও সক্রিয় রাখুন।
৪. ডায়েট ও ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত লবণ ও রিফাইন্ড ফ্যাট খাওয়া এড়িয়ে চলুন। ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখে সুষম খাবার গ্রহণই হৃৎপিণ্ডকে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষাবলয় জোগাতে পারে।