হারিয়ে যাওয়া কুস্তি কি ফিরবে মর্ত্যে? সাইকেল ও বালতি জিততে পালোয়ানদের জমজমাট লড়াই!

একসময় গ্রামীণ বাংলার ঘরে ঘরে কুস্তির যে কদর ছিল, কালের নিয়মে তা আজ হারিয়ে যাওয়ার পথে। বর্তমান প্রজন্মের বেশিরভাগ যুবা যখন সোশ্যাল মিডিয়া ও মোবাইল গেমে বুঁদ, ঠিক সেই সময়ই গ্রামীণ ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে এক অভিনব উদ্যোগ নিলেন কাণ্ডী বহড়া গ্রামের ভান্ডারা ও ঘোষপাড়ার যুবকরা। মোবাইল থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে সরিয়ে মাটির খেলার প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে আয়োজন করা হয় এক গ্রামীণ কুস্তি প্রতিযোগিতার।

ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, মহাভারত যুগ থেকে শুরু করে স্বাধীনতা আন্দোলনে যুক্ত চরমপন্থী অনুশীলন সমিতি, বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স ও যুগান্তর দলের মতো বিপ্লবী সংগঠনের সদস্যরা শরীরচর্চার প্রধান অস্ত্র হিসেবে কুস্তিকেই বেছে নিয়েছিলেন। উপমহাদেশের প্রাচীন এই খেলাটিকে টিকিয়ে রাখতে বহড়ার মাঠে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ঝাড়খণ্ড ও বিহার থেকে শতাধিক নামী পালোয়ান অংশ নেন।

প্রতিযোগিতাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পুরস্কারের তালিকায় রাখা হয়েছিল সাইকেল, পিতলের ঘড়া ও বালতি এবং গামছা। দীর্ঘ লড়াই শেষে খড়্গপুরের যুবক রাকেশ প্রথম স্থান অধিকার করে প্রধান পুরস্কার হিসেবে সাইকেল জিতে নেন। অন্য বিজয়ীদের হাতেও তুলে দেওয়া হয় ঘড়া ও পিতলের বালতি। দীর্ঘদিন পর এলাকার মাটিতে এই ঐতিহ্যবাহী লড়াই দেখতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। উদ্যোক্তাদের এই অভিনব প্রচেষ্টা গ্রামীণ সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এক নতুন আশার আলো দেখিয়েছে।