‘প্রোমোটার রাজের অবসান ঘটাতে হবে!’-পুরভোটের রণকৌশল ঘোষণা করে বড় হুঙ্কার সুকান্তর

দুর্গাপুজো মিটতেই রাজনৈতিক উত্তাপ চড়তে শুরু করেছে রাজ্য রাজনীতিতে। নবান্নের লড়াইয়ের পর এবার বিজেপির প্রধান টার্গেট লালবাড়ি অর্থাৎ কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা নির্বাচন। যদি এই পুরভোটে গেরুয়া শিবির জয়ী হতে পারে, তবে ইতিহাস গড়ে প্রথমবার কলকাতার মসনদে বসবে বিজেপির নিজস্ব মেয়র। আর এই লক্ষ্যেই এখন থেকে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে দল। বিশেষ করে পুরভোটে তরুণ মুখ, পেশাদার এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের প্রার্থী করার ওপর সর্বাধিক জোর দিচ্ছে বিজেপি।

২০৯টি ওয়ার্ডেই প্রার্থী দেবে বিজেপি আসন্ন কলকাতা পুরভোটে বিশেষ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কলকাতার সমস্ত ওয়ার্ডেই (পুনর্বিন্যাসের পর সম্ভাব্য ২০০টি বা তার বেশি) প্রার্থী দেবে বিজেপি। অতীতে সুকান্ত দাবি করেছিলেন, কলকাতাবাসী এবার প্রথমবার সনাতনী মেয়র পেতে চলেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দীর্ঘদিন দল করার সুবাদে নয়, বরং যিনি যোগ্য এবং জয়ের ক্ষমতা রাখেন, তাঁকেই প্রার্থী করা হবে। প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা, এলাকায় তাঁর জনভিত্তি ও ভাবমূর্তির ওপর ভিত্তি করেই বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

পুরসভায় ‘প্রোমোটার রাজ’ খতম করার ডাক রবিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে সুকান্ত মজুমদার আক্রমণ শানিয়ে জানান, কলকাতা পুরসভাকে একটি স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থার আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর বিজেপি। পুরসভার অন্দরে চলা ‘প্রোমোটার রাজ’-এর অবসান ঘটানোই দলের অন্যতম বড় লক্ষ্য। রাজ্য সরকার ও পুরসভার মধ্যে সঠিক সমন্বয় রেখে শহরের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির স্বাতন্ত্র্য রক্ষা, আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা, পরিকল্পিত নগরায়ন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

কীভাবে মিলবে বিজেপির টিকিট? সাধারণ কর্মী ছাড়াও ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ও আইনজীবীদের মতো বিভিন্ন পেশার বিশিষ্টদের রাজনীতিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সুকান্ত। তিনি বলেন, “স্টেডিয়ামে বসে হাততালি না দিয়ে ময়দানে নেমে কাজ করুন। বিজেপি আপনাদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে।”

দলীয় সূত্রে খবর, শুধুমাত্র রাজনৈতিক নেতা নন, আম আদমি বা সাধারণ পেশাদাররাও যাতে প্রার্থী হতে পারেন, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। কলকাতার ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেনে রাজ্য বিজেপি দফতরের বাইরে একটি ‘ড্রপবক্স’ রাখা হচ্ছে। যাঁরা বিজেপির টিকিটে লড়তে ইচ্ছুক, তাঁরা নিজেদের আবেদনপত্র ওই ড্রপবক্সে ফেলতে পারবেন। এরপর দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তা বিবেচনা করে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে।

সব মিলিয়ে, বিধানসভা ভোটের উত্তাপ কাটিয়ে পুরভোটের ময়দানে নামার আগে বিজেপির এই কৌশল রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে চলেছে, এখন সেটাই দেখার বিষয়!