সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে বিধানসভায় প্রস্তাব আনছে কংগ্রেস সরকার! সমর্থন জানাবে সিপিএমও

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে আজ, সোমবার কেরল বিধানসভায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর প্রস্তাব পাস করাতে চলেছে কংগ্রেস সরকার। বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ অনুযায়ী, এই প্রস্তাবে সিপিএম নেতৃত্বাধীন বাম শিবির এবং অন্যান্য সমস্ত বিরোধী দলগুলির পূর্ণ সমর্থন থাকার কথা রয়েছে। রাজ্য সরকারের সরকারি সূত্রে খবর, বিধানসভায় এই প্রস্তাবটি পেশ করবেন মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশন।

এর আগে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (LDF) সরকার এসআইআর (SIR)-এর বিরোধিতা করে একটি প্রস্তাব পাস করিয়েছিল। সেটিই ছিল দেশের ইতিহাসে এসআইআর-এর বিরুদ্ধে কোনও রাজ্য সরকারের নেওয়া প্রথম পদক্ষেপ। বর্তমান কংগ্রেস সরকারের এই প্রস্তাবটিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC)-কে অপসারণের জোরালো দাবির পাশাপাশি বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার যাবতীয় অসঙ্গতি দ্রুত সংশোধন করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া সমস্ত যোগ্য ভোটারের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হবে।

শুধু তাই নয়, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত বিতর্কিত আইনটি বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনেই নতুন ও স্বচ্ছ নিয়োগ পদ্ধতি চালু করার দাবিও রাখা হয়েছে এই প্রস্তাবে। বিধানসভায় এই প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে পাস হয়ে যাওয়ার পর তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং লোকসভার স্পিকারের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ১৪০ সদস্যের কেরল বিধানসভায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (UDF)-এর ১০২ জন এবং সিপিএম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ (LDF)-এর ৩৫ জন বিধায়ক রয়েছেন। অন্যদিকে, এই বিধানসভায় বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা মাত্র ৩ জন।

প্রস্তাবে অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলা হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও কার্যপ্রণালী নিয়ে বর্তমানে গুরুতর সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তাই কমিশনের হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরায় ফিরিয়ে আনার স্বার্থেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পদ থেকে অপসারণ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ‘এই ধরনের অনিয়মের সুযোগ নিয়ে সংখ্যালঘু, অভিবাসী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং উদীয়মান তরুণ সমাজের ভোটাধিকার হরণ করা হচ্ছে, যা সরাসরি ভারতের গণতান্ত্রিক নীতি ও সংবিধানের পরিপন্থী।’ রাজনৈতিক মহলের মতে, এই প্রস্তাব পাস হওয়ার পর জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র সংঘাত তৈরি হতে পারে।