ঠাকুমার মৃত্যু নিয়ে মিথ্যা বলছে পুলিশ! পরিবারের গুরুতর অভিযোগের জবাবে বিস্ফোরক ভিডিয়ো প্রকাশ করল দিল্লি পুলিশ।

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান অভিজিৎ দীপকেকে আটক করার পর তাঁর ঠাকুমার মৃত্যুর খবর জানানো নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক নতুন মোড় নিল। দিল্লি পুলিশের দাবি, হেফাজতে থাকাকালীনই অভিজিৎকে তাঁর ঠাকুমার প্রয়াণের খবর জানানো হয়েছিল। শুধু তাই নয়, শেষকৃত্যে যোগ দিতে মহারাষ্ট্রে নিজের বাড়িতে ফেরার জন্য বিমানের টিকিট ও যাতায়াতের সমস্ত ব্যবস্থার সাহায্যের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু সেই প্রস্তাব সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে তিনি নিজেই দিল্লিতে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এই দাবিতে রবিবার একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে দিল্লি পুলিশ।

দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার নেহা যাদব জানিয়েছেন, অভিজিৎ দীপকের ঠাকুমার প্রয়াণের খবর পাওয়ার পরেই পুলিশ আধিকারিকরা তাঁকে বিষয়টি জানান। পাশাপাশি, তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলা এবং বাড়ি ফেরার যাবতীয় বন্দোবস্ত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিজিৎ সাফ জানিয়ে দেন, “আমি এখানেই থাকব।” উল্লেখ্য, অভিজিতের মা অনিতা দীপকে এর আগে অভিযোগ করেছিলেন যে, তাঁর ছেলেকে ঠাকুমার মৃত্যুর খবর জানানো নিয়ে পুলিশ ডাহা মিথ্যা কথা বলছে। পরিবারের দাবি ছিল, অভিজিতের সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছিল না এবং তাঁর ফেরার অপেক্ষাতেই শেষকৃত্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরিবারের এই গুরুতর অভিযোগের জবাব দিতেই ময়দানে নেমে ওই ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আনে দিল্লি পুলিশ।

মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলার সন্তুক পিম্পরি গ্রামের বাসিন্দা সাবিত্রীবাই শঙ্কররাও দীপকে (৮৫) বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে শনিবার সকালে মারা যান। রবিবার সকালে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। প্রসঙ্গত, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এ অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত ১০ অক্টোবর মুম্বই থেকে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর অভিজিৎ দীপকে, CJP-র সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস এবং নেতা আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পুলিশ। জনপথে প্রস্তাবিত অবস্থান বিক্ষোভে অনুমতি না থাকা এবং অতীতের হিংসাত্মক ঘটনার পূর্বের রেকর্ড ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পেশ করার পর তিন নেতাকই ছেড়ে দেওয়া হয়।