সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল? দিল্লির মেট্রো বন্ধ রাখায় তুঙ্গে বিতর্ক!

সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশকে অগ্রাহ্য করার অভিযোগ উঠল দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের আটক না করা এবং মেট্রো পরিষেবা সচল রাখার বিষয়ে শীর্ষ আদালত কঠোর নির্দেশ দেওয়ার পরেও সোমবার সকাল থেকেই সেন্ট্রাল দিল্লির একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কংগ্রেসের নেতৃত্বে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সুপ্রিম কোর্টমুখী পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে রাজনৈতিক পারদ চড়েছে।

রবিবারই সুপ্রিম কোর্টের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে বাধা দেওয়া বা কাউকে আটক করা যাবে না। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যাতায়াত সুগম করতে মেট্রো চলাচল সীমিত রাখা হলেও তা সম্পূর্ণ বন্ধ না রাখার কথা বলা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও সোমবার সকাল থেকে নিরাপত্তা ও যান নিয়ন্ত্রণের কারণ দেখিয়ে কঠোর পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। কংগ্রেসের ডাকে আয়োজিত এই মিছিলে দল-মত নির্বিশেষে সকলকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই কর্মসূচিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লির প্রায় ৩০টি প্রধান রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে।

জানা গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট অভিযানের জন্য বারাখাম্বা রোডে জমায়েতের ডাক দিয়েছিল কংগ্রেস। এর পরই নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয় মধ্য দিল্লিকে। ফলস্বরূপ, মান্ডি হাউজ, বারাখাম্বা রোড, জনপথ, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, পাটেল চক এবং রাজীব চক মেট্রো স্টেশন দুপুর বা বিকেল চারটে পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। মেট্রো স্টেশনগুলি বন্ধ থাকায় অফিসযাত্রী ও সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।

অন্যদিকে, গতকাল শীর্ষ আদালতের নির্দেশ সামনে আসার পরই সুপ্রিম কোর্টের সামনে এবং সংলগ্ন এলাকা থেকে ব্যারিকেড সরিয়ে নিয়েছিল পুলিশ। এমনকি সেখানে জারি থাকা বিএনএসএস ১৬৩ ধারার নোটিসও তুলে নেওয়া হয়েছিল। পুলিশের দাবি, গত শনিবারের সংঘর্ষের ঘটনার প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই ২০টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং রবিবার ওই চত্বর থেকে প্রায় ৪০০ জনকে আটক করা হয়েছিল। ইন্ডিয়া জোটের আজকের এই মেগা মার্চকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।