চমক দিল বিজেপি! পুরভোটে প্রার্থী হতে ফেলুন ড্রপবক্সে নাম, কলকাতার রাজনীতিতে অভিনব উদ্যোগ গেরুয়া শিবিরের

দুর্গাপুজো কাটতে না কাটতেই রাজ্যজুড়ে পুরসভা ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। আর এই ভোটকে পাখির চোখ করে পুজো শুরুর আগেই মাস্টারস্ট্রোক দিল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। কলকাতার রাজনীতিতে আমজনতার সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এক অভিনব এবং নজিরবিহীন পদক্ষেপ করল গেরুয়া শিবির। প্রথাগত দলীয় অনুশাসনের বাইরে গিয়ে এবার সরাসরি সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থী বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে হাওড়া ও কলকাতার পুরভোটের প্রস্তুতি বৈঠক থেকে এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা করা হয়।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কলকাতার ৬ নম্বর মুরলিধর সেন লেনের পুরনো দলীয় কার্যালয়কে পুরভোটের মূল নির্বাচনী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এখানেই বসানো হচ্ছে একটি বিশেষ ‘ড্রপবক্স’। এই ড্রপবক্সে শুধুমাত্র বিজেপি কর্মী-সমর্থকরাই নন, বরং নাগরিক সমাজের যেকোনো প্রতিনিধি, বুদ্ধিজীবী কিংবা আগ্রহী সাধারণ মানুষ নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর নাম ও প্রস্তাব জমা দিতে পারবেন। পুজোর ছুটির দিনগুলিতেও এই প্রক্রিয়া চালু থাকবে, যাতে ইচ্ছুক নাগরিকরা সহজেই নিজেদের মতামত জানাতে পারেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থী চয়ন প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও জনমুখী করতে বিজেপির এই কৌশল এক বিরাট রাজনৈতিক চমক।
বৈঠকে সুকান্ত মজুমদার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জয়ের সম্ভাবনা, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং ওয়ার্ড স্তরে গ্রহণযোগ্যতাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী এবং বিশিষ্ট সমাজসেবীদের রাজনীতিতে সরাসরি অংশ নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, দূর থেকে দর্শক হয়ে বসে থাকলে শহরের বেহাল দশা বদলাবে না। বিগত ৪৯ বছরে কলকাতার পরিকাঠামো চরমভাবে পিছিয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করে বাম ও তৃণমূল উভয় শিবিরকেই একাসনে বসিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।
এছাড়াও, কলকাতা পুরনিগমকে প্রোমোটার বা ডেভলপারদের ইচ্ছাধীন খপ্পর থেকে মুক্ত করার হুশিয়ারি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। প্রোমোটাররাজ চিরতরে বন্ধ করে একটি স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত এবং আধুনিক ‘নতুন কলকাতা’ গড়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে গেরুয়া শিবির। ওয়ার্ড ভিত্তিক যুবসমাজকে এগিয়ে আনতে স্টার্টআপ, খেলাধুলো, দক্ষতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল পরিষেবা এবং উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে বিশেষ সংলাপের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, উৎসবের মরশুমেই বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে বিজেপির এই হাই-ভোল্টেজ পুরভোট রণকৌশল।