মহালয়ার রেশ কাটতেই তারকেশ্বরে উপচে পড়া ভিড়! দেব ও শুভশ্রীকে সামলাতে কালঘাম ছুটল পুলিশের!

দুর্গাপুজোর উৎসবমুখর আবহে বক্স অফিসে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত বাংলা ছবি ‘দেশু ৭’। আর সেই ছবির প্রচারেই রবিবার তারকেশ্বরের সিলভিশন মলে অনুরাগীদের সঙ্গে এক বিশেষ ও বর্ণাঢ্য সময় কাটালেন জনপ্রিয় টলিউড তারকা দেব ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। মলের মাল্টিপ্লেক্স সহযোগী ‘উদয়ন সিনেমা’র উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রথমার সন্ধ্যার অনুষ্ঠানটি মুহূর্তেই এক বিশাল উৎসবে রূপ নেয়। মহালয়ার আনন্দ শেষ হতে না হতেই প্রিয় তারকাদের একঝলক দেখতে তারকেশ্বর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান, যা ঘিরে ওই চত্বরে তৈরি হয় অভূতপূর্ব উন্মাদনা।

এদিন তারকেশ্বর ও সংলগ্ন এলাকার অনুরাগীদের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণ হয়। দেব ও শুভশ্রীকে সামনাসামনি পেয়ে ভক্তদের উল্লাস, গান, নাচ আর করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা চত্বর। দুই তারকার সাবলীল উপস্থিতি এবং আন্তরিক মেজাজ ভক্তদের উন্মাদনাকে দ্বিগুণ করে তোলে। বাংলা সিনেমাকে বড় পর্দার মাধ্যমে আরও বেশি সংখ্যক দর্শকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং দর্শকের মধ্যে থিয়েটারমুখী হওয়ার আগ্রহ বাড়াতেই এই বিশেষ প্রচার পর্বের আয়োজন করা হয়েছিল। দেবের অভিনয় ও পরিচালনার অভিনবত্ব এবং শুভশ্রীর স্টার পাওয়ার—দুইয়ের মেলবন্ধনে ‘দেশু ৭’-কে ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে, যা এদিনের উপচে পড়া ভিড়েই স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, তারকেশ্বরের এই বিশেষ আয়োজনটি ‘উদয়ন সিনেমা’র কাছেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সংস্থাটি বর্তমানে তাদের গৌরবময় ৮০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে। ১৯৪৬ সালে দেব প্রসাদ দা শেওড়াফুলিতে উদয়ন সিনেমা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা পরবর্তীতে তাঁর পুত্র পার্থসারথি দা সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যান। ২০১৮ সালে হুগলির প্রথম দুই-স্ক্রিনের মাল্টিপ্লেক্স হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর, ২০২৫ সালে তারকেশ্বরে তারা নতুন প্রেক্ষাগৃহ চালু করে। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, এটি পশ্চিমবঙ্গের কোনো পঞ্চায়েত এলাকায় জাতীয় মানের প্রথম মাল্টিপ্লেক্স। বর্তমানে এখানে লেজার প্রজেকশন, থ্রিডি, ডলবি সাউন্ড এবং প্রিমিয়াম রিক্লাইনার আসনের মতো বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

উদয়ন সিনেমা প্রাইভেট লিমিটেডের ডিরেক্টর রুদ্র প্রসাদ দা’ এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা সিনেমাকে আবারও সাধারণ মানুষের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চাই। ৮০ বছর পরেও আমরা বাংলার মাটির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি পারিবারিক সংস্থা, যাদের বড় পর্দা ও বাংলা ছবির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা রয়েছে। সংকটময় মুহূর্তেও দর্শকরা আমাদের পাশে ছিলেন, যার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।” বাবা তারকনাথের পবিত্র ভূমি থেকে পুজো উদ্‌যাপন শুরু করার এই বিশেষ মুহূর্তে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের সার্বিক সমৃদ্ধি এবং নতুন জাগরণের প্রার্থনাও জানানো হয়। সব মিলিয়ে, প্রথমার সন্ধ্যায় দেব-শুভশ্রীর ঝকঝকে উপস্থিতি, ‘দেশু ৭’-কে নিয়ে ফ্যানেদের উন্মাদনা এবং উদয়নের ৮০ বছরের ইতিহাস তারকেশ্বরের আকাশ-বাতাসকে এক অনন্য উৎসবে মাতিয়ে তোলে।