চুলে হাত দিলেই পিছলে যাবে রেশমের মতো! ঘরোয়া এই ৪টি প্রাকৃতিক জেলেই চুল হবে মোহময় ও বাউন্সি

ব্যস্ত জীবনযাত্রা, দূষণ এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে চুল তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও প্রাণশক্তি হারিয়ে ফেলছে। চুল যদি অতিরিক্ত শুষ্ক, রুক্ষ ও ম্যাড়মেড়ে হয়ে যায়, তবে পার্লারের কেমিক্যালযুক্ত প্রোডাক্টে টাকা ও সময় নষ্ট না করে ভরসা রাখতে পারেন সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি ঘরোয়া জেলের ওপর। এই প্রাকৃতিক জেলগুলো শুধু চুলকে নরম ও রেশমিই করে তুলবে না, এর হারিয়ে যাওয়া প্রাকৃতিক বাউন্স ও জেল্লাও ফিরিয়ে আনবে।

চুলের যত্নে অত্যন্ত কার্যকরী ও সহজে ঘরেই তৈরি করা যায় এমন কিছু জেলের খোঁজ দেওয়া হলো এখানে:

১. ঢেঁড়সের জাদুকরি জেল (Okra Gel)

চুলে যদি আশানুরূপ বাউন্স না থাকে এবং সামনে থেকে চুল একেবারে ফ্ল্যাট বা চ্যাপ্টা দেখায়, তবে ঢেঁড়সের জেল হতে পারে এক অব্যর্থ ওষুধ। এটি চুলকে গভীরভাবে কন্ডিশন করতে এবং সোজা চুলকে প্রাণবন্ত ও বাউন্সি করে তুলতে সাহায্য করে।

  • বানানোর নিয়ম: কয়েকটি তাজা ঢেঁড়স ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন। এবার পর্যাপ্ত জলে দিয়ে তা ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধরে ফোটাতে থাকুন, যতক্ষণ না জলটি পুরোপুরি আঠালো জেলের রূপ নেয়। এরপর মিশ্রণটি সামান্য ঠান্ডা করে একটি পরিষ্কার সুতির কাপড়ের সাহায্যে ছেঁকে নিন। এই জেলের সঙ্গে সামান্য নারকেল তেল বা আমন্ড অয়েল এবং ইচ্ছে হলে ২-৩ ফোঁটা ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে চুলে ভালো করে লাগিয়ে নিন। প্রায় ৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।

২. তিসির বীজের জেল (Flaxseed Gel)

চুলে ইনস্ট্যান্ট গ্লুস বা উজ্জ্বলতা আনতে তিসির বীজের জেল অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং কার্যকরী। এটি নিয়মিত ব্যবহারে চুল নরম হওয়ার পাশাপাশি চুল ঝরে পড়ার সমস্যাও অনেকটাই কমে যায়।

  • বানানোর নিয়ম: প্রথমে পরিমাণমতো তিসির বীজ জলে ফুটিয়ে জেলের মতো ঘন করে নিন। এর সঙ্গে সামান্য মেথির বীজও মিশিয়ে নিতে পারেন। মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে সুতির কাপড় দিয়ে ছেঁকে নিয়ে মাথার ত্বক বা স্ক্যাল্প থেকে চুলের আগা পর্যন্ত ভালোভাবে মেখে নিন। সপ্তাহে অন্তত দু’বার এটি ব্যবহার করলে দারুণ ফল পাবেন।

৩. ভাতের মাড়ের পুষ্টিকর ক্রিম (Rice Water Gel)

চুল ও ত্বক উভয়ের জন্যই ভাতের মাড় বা চাল সেদ্ধ জলের পুষ্টিগুণ অপরিসীম। এটি জেলের মতো ঘনত্ব তৈরি করে চুলকে সিল্কি করে তোলে।

  • বানানোর নিয়ম: ভাত সেদ্ধ করার সময় তার মাড় বা ঘন অংশটি আলাদা করে জেলের মতো ব্যবহার করা যায়। এছাড়া কিছুটা রান্না করা ভাতের সঙ্গে সামান্য জল মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে একটি ঘন ও ক্রিমি জেলের মতো মিশ্রণ তৈরি করে নিতে পারেন। এর সঙ্গে ভিটামিন ই ক্যাপসুল মিশিয়ে চুলে লাগালে চুল পুষ্টি পায়।

৪. তাজা জবা ফুলের জেল (Hibiscus Gel)

প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে জবা ফুল ও পাতার জুড়ি মেলা ভার। এটি চুলের গোড়া শক্ত করতে এবং সিল্কি ভাব আনতে সাহায্য করে।

  • বানানোর নিয়ম: কয়েকটি তাজা জবা ফুল ও পাতা ভালো করে ধুয়ে নিয়ে তার পুংকেশরগুলো ফেলে দিন। এবার ফুল ও পাতাগুলো অল্প জলে ফুটিয়ে নিন। এটি ঠান্ডা হওয়ার পর ভালো করে বেটে বা ব্লেন্ড করে ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে জবা ফুলের জাদুকরি জেল। এটি সরাসরি চুলে লাগাতে পারেন অথবা শ্যাম্পুর সঙ্গে মিশিয়েও ব্যবহার করতে পারেন।