‘মেরি এক টাঙ নকলি হ্যায়…!’ বাংলা-বলিউডকে কাঁদিয়ে পরপারে উুদয় শেট্টি ও বল্লু পাজি!

বলিউড ইন্ডাস্ট্রি এবং কোটি কোটি চলচ্চিত্রপ্রেমীদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে মাত্র দু’সপ্তাহের ব্যবধানে চিরবিদায় নিলেন ২০০৭ সালের কালজয়ী কমেডি ছবি ‘ওয়েলকাম’-এর দুই অন্যতম জনপ্রিয় এবং আইকনিক চরিত্র। গত বৃহস্পতিবার সকালে ৭৫ বছর বয়সে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছেন প্রবীণ ও বহুমুখী প্রতিভাবান অভিনেতা নানা পাটেকর। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণের শোক কাটতে না কাটতেই অনিবার্যভাবে ফিরে আসছে মুস্তাক খানের প্রসঙ্গও। কারণ, ঠিক এর দু’সপ্তাহ আগেই ৬২ বছর বয়সে ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ ও অসম লড়াই চালিয়ে না ফেরার দেশে চলে গিয়েছিলেন ‘ওয়েলকাম’-এর জনপ্রিয় বল্লু পাজি খ্যাত মুস্তাক খান। ফলে পর্দায় তাঁদের সেই অদম্য রসায়ন এবং হাসির ম্যাজিক এখন শুধুই স্মৃতি।
আনিস বাজমি পরিচালিত ‘ওয়েলকাম’ ভারতীয় কমেডি সিনেমার ইতিহাসে এক অন্যতম মাইলফলক হয়ে রয়েছে। ছবির পর্দার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল নানা পাটেকরের অভিনয় করা ‘উদয় শেট্টি’ চরিত্রটি। বাইরে থেকে যতটা খলনায়কসুলভ কঠিন ও রাগী ডন হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল, ভেতরের মনটা ঠিক ততটাই সরল ও নরম—বোনকে ভালো ঘরে বিয়ে দিতে তাঁর ব্যাকুলতা দর্শকদের পেটে খিল ধরিয়েছিল। ‘কন্ট্রোল উদয়, কন্ট্রোল’ সংলাপটি আজ কেবল ছবির গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং রাগ নিয়ন্ত্রণের প্রতীক হিসেবে মানুষের দৈনন্দিন কথ্যভাষার অংশ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, বল্লু পাজি চরিত্রে মুস্তাক খানের উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত চমকপ্রদ। ছবির শুরুতে চরিত্রটির তেমন কোনো সংলাপ না থাকলেও পরিচালক আনিস বাজমির মগজপ্রসূত সেই বিখ্যাত সংলাপ—‘মেরি এক টাঙ নকলি হ্যায়, ম্যায় হকি কা বহুত বড়া প্লেયર থা’—মুহূর্তের মধ্যে তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেয় এবং তা কালজয়ী হয়ে ওঠে।
নানা পাটেকরের দীর্ঘ অভিনয় জীবন অস্কারজয়ী ও সমাদৃত বহু চলচ্চিত্রে সমৃদ্ধ। ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘নটসম্রাট’, ‘অব তক ছাপ্পন’, ‘অপরহণ’-এর মতো ছবিতে দুর্দান্ত অভিনয়ের সুবাদে তিনি তিনটি জাতীয় পুরস্কার এবং মর্যাদাপূর্ণ পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। তবে ‘ওয়েলকাম’-এর উদয় শেট্টি চরিত্রটি তাঁকে এক ভিন্ন মাত্রার জনপ্রিয়তা দিয়েছিল। অন্যদিকে, মুস্তাক খান তাঁর সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে ‘হেরা ফেরি’, ‘মুঝসে শাদি করোগি’, ‘খিলাড়ি ৭৮৬’, ‘স্ত্রী’, ‘গদর ২’ এবং ‘বেবি জন’-এর মতো একাধিক বক্স অফিস হিট ছবিতে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গিয়েছেন। কিন্তু দর্শকদের হৃদয়ে তাঁর বল্লু পাজির ইমেজ চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে।
দু’সপ্তাহের সংক্ষিপ্ত ব্যবধানে এই দুই মহাতারকার প্রয়াণ যেন বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে একটি বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি করল। তাঁদের অভিনীত সেই মজার দৃশ্য, তাকলাগানো সংলাপ আর হাসির ফোয়ারা আজও দর্শকদের মুখে মুখে ফেরে। আজ নানা পাটেকরের চলে যাওয়ার মধ্য দিয়ে ‘ওয়েলকাম’-এর সোনালি জুটির সেই অধ্যায় চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল, যা আর কোনো দিন বড়পর্দায় ফিরে আসবে না।