সস্তা ঋণের দিন শেষ! রেপো রেট বাড়িয়ে মধ্যবিত্তের পকেটে বড় ধাক্কা দিল আরবিআই!

সুদের হার কমার দিন আপাতত অতীত—এই স্পষ্ট বার্তা দিয়েই মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকের পর রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানোর কথা ঘোষণা করলেন আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা। এর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলোকে আরবিআই যে সুদে ঋণ দেয়, সেই রেপো রেট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৫ শতাংশে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক তাদের আর্থিক অবস্থানের মোড় ঘুরিয়ে ‘নিউট্রাল’ থেকে ‘ক্যালিব্রেটেড টাইটেনিং’-এর পথে হেঁটেছে। যার অর্থ, আগামী দিনে সুদের হার স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে পারে অথবা আরও বাড়তে পারে, তবে কমার কোনো সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। সেই সঙ্গে দেশের আর্থিক বৃদ্ধির পূর্বাভাসও আগের অর্থবর্ষের ৭.৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে চলতি অর্থবর্ষে ৭ শতাংশের সামান্য উপরে নামিয়ে আনা হয়েছে।

সাধারণ মানুষের মাথায় ফের ইএমআই বাড়ার দুশ্চিন্তা ঢুকিয়ে দেওয়া এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে মূলত রয়েছে লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি ও বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা। খাদ্যপণ্য এবং জ্বালানির দাম চড়ার কারণে আগস্ট মাসেই খুচরো মূল্যবৃদ্ধি বেড়ে ৪.৮২ শতাংশে পৌঁছেছিল, আর সেপ্টেম্বরের তথ্যে তা প্রায় ৫.৫ শতাংশ ছুঁতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আরবিআই চলতি অর্থবর্ষের জন্য মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৫.২ শতাংশ করেছে। বিশেষ করে অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে মূল্যবৃদ্ধি ৬ শতাংশ পর্যন্ত ছুঁয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।

মূল্যবৃদ্ধির এই পারদ চড়ার পিছনে মূলত দুটি বড় কারণ কাজ করছে—একদিকে খামখেয়ালি বর্ষা ও এল নিনোর দাপট, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম। চলতি বছরে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রায় ১৩ শতাংশ ঘাটতি নিয়ে বিদায় নেওয়ায় দেশের বহু অংশে জলাশয় শুকিয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো প্রভাব বিস্তার করায় শীতকাল পর্যন্ত খাদ্যপণ্যের জোগান ব্যাহত হতে পারে। অন্যদিকে, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ফলে তেলের ট্যাঙ্কারের চড়া ভাড়া, যুদ্ধকালীন বিমার খরচ এবং পরিশোধন ক্ষমতার সংকট মিলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এক গভীর সঙ্কটে পড়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আরবিআইয়ের এই কড়াকড়ি এখানেই শেষ হচ্ছে না। স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত এবং বিশ্ববাজারে তেলের অস্থিরতার কারণে চলতি অর্থবর্ষে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক আরও এক থেকে দু’দফা রেপো রেট বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। ব্যাঙ্ক অব বরোদার মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি বজায় থাকলে আরও দু’বার রেপো রেট বাড়ানো হতে পারে। ফলে সব মিলিয়ে বাজারে টাকার টানাটানি এবং ব্যাংক ঋণে বাড়তি সুদের বোঝা সাধারণ মধ্যবিত্তকে আরও বেশ কিছুদিন টানতে হতে পারে।