ভারতের এই পাহাড়ি শহরে লুকিয়ে রয়েছে মাশরুমের খনি! জানেন কেন একে বলা হয় ‘মাশরুম সিটি’?

নিরামিষ হোক কিংবা আমিষ, রসনাবিলাসে মাশরুমের জুড়ি মেলা ভার। স্যুপ থেকে শুরু করে সুস্বাদু কারি বা স্ন্যাকস—সবক্ষেত্রেই মাশরুমের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই উপাদেয় খাদ্য বর্তমানে দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই চাষ করা হচ্ছে। তবে ভারতের একটি বিশেষ পাহাড়ি শহরের সঙ্গে মাশরুম চাষের সুদীর্ঘ ও গৌরবময় সম্পর্ক রয়েছে। আর সেই ঐতিহাসিক কারণেই ওই শহরটিকে ভারতের ‘মাশরুম সিটি’ বা ‘মাশরুমের শহর’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

হিমাচল প্রদেশের মনোরম সোলান শহরটিকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের ‘মাশরুম সিটি’ বলা হয়। মাশরুম চাষ এবং এই সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর এই শহরটিকে এই বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত করা হয়। তবে এর ইতিহাস আরও বেশ কিছুটা পুরনো। মূলত ১৯৬১ সালে হিমাচল প্রদেশ সরকার এবং আইসিএআর (ICAR)-এর যৌথ উদ্যোগে এই অঞ্চলে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষের কাজ শুরু হয়। এরপর সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে এই পাহাড়ি এলাকায় মাশরুম চাষ ব্যাপক প্রসার লাভ করে।

বর্তমানে সোলানে কেবল জনপ্রিয় হোয়াইট বাটন মাশরুমই নয়, বরং আরও একাধিক পুষ্টিকর ও ভিন্ন স্বাদের মাশরুমের চাষ করা হচ্ছে। এখানকার কৃষকরা অয়েস্টার, শিতাকে, মিল্কি এবং প্যাডি স্ট্র-এর মতো বৈচিত্র্যময় মাশরুম সফলভাবে ফলাচ্ছেন। প্রতিটি প্রজাতির নিজস্ব তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও চাষের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতির প্রয়োজন হয়। দেশজুড়ে পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এই খাদ্যের চাহিদা আকাশছোঁয়া হওয়ায় কৃষকদের মধ্যেও এই লাভজনক চাষের প্রতি আগ্রহ দিন দিন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সোলান শহরের এই অনন্য পরিচয়ের নেপথ্যে রয়েছে বিখ্যাত আইসিএআর-ডিরেক্টরেট অফ মাশরুম রিসার্চ (DMR)। চাম্বাঘাটে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৩ সালে ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর মাশরুম রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং’ হিসেবে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছিল এবং পরবর্তীকালে এটি ডিরেক্টরেটে উন্নীত হয়। এখানে ভোজ্য ও ঔষধি গুণসম্পন্ন বিভিন্ন মাশরুম নিয়ে নিরলস গবেষণা চলে। পাশাপাশি কৃষকদের আধুনিক ও লাভজনক চাষের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি শেখাতে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করে থাকে এই গবেষণা কেন্দ্র।

সোলানের সঙ্গে মাশরুমের এই নিবিড় বন্ধনকে উদযাপনের জন্য প্রতি বছর ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় মাশরুম মেলার আয়োজন করা হয়। ডিরেক্টরেট অফ মাশরুম রিসার্চের সার্বিক উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে খ্যাতনামা গবেষক, চাষি ও ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬০-এর দশকে শুরু হওয়া এই পথচলা আজ সোলানকে ভারতের মাশরুম মানচিত্রে এক অবিসংবাদিত ও গৌরবোজ্জ্বল স্থানে পৌঁছে দিয়েছে।