‘ওঁর রাগ তো স্বাভাবিক ছিল…!’ বন্ধু নানার প্রয়াণে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মিঠুন চক্রবর্তী!

বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ভোররাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত ও বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। বেশ কিছুদিন ধরে মুম্বইয়ের হাঙ্গামা ছেড়ে গোয়ার গ্রামের বাড়িতেই থিতু হয়েছিলেন তিনি। কাজের সূত্রে মাঝেমধ্যে মুম্বইয়ে আসতেন এই অভিনেতা। গোয়াতেই শেষ মুহূর্তগুলো কাটছিল তাঁর। হঠাতই বুকে তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করায় তাঁর বাড়িতে দ্রুত মেডিকেল টিম পৌঁছায়। সে সময় তাঁকে সম্পূর্ণ সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক কার্ডিয়াক মাসাজ দেওয়ার পর দ্রুত তাঁকে গোয়ার ডোনা পাওলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

নানা পাটেকরের আকস্মিক প্রয়াণে গোটা বলিউড তথা ভারতীয় সিনেমা জগতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সহ দেশের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে কর্মসূত্রে তাঁর পরম বন্ধু ছিলেন মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী। যদিও দু’জন মাত্র একটি ছবি ‘সাগর সঙ্গম’-এ একসঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেছিলেন, তবুও তাঁদের বন্ধুত্বের পরিধি ছিল সিনেমার সীমানা ছাড়িয়ে বহু দূরে। এই মুহূর্তে আলিপুরদুয়ারে থাকা মিঠুন বন্ধুর মৃত্যুতে শোকবার্তা পাঠিয়ে জানিয়েছেন, “আমার খুব কাছের বন্ধু ছিলেন নানা, তাঁর প্রয়াণে আমি খুবই কষ্ট পেয়েছি।”

নানাকে স্মরণ করে মিঠুন তাঁর অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “একেবারে সাধারণ মানুষের মতো জীবন কাটাতেন নানা, ওঁর সাদামাটা পোশাক-আশাক দেখলেই তা বোঝা যেত।” শুধু অভিনয়েই নয়, নানা পাটেকরের সামাজিক অবদান এবং বহু মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা স্মরণ করে মিঠুন বিশেষভাবে উল্লেখ করেন মহারাষ্ট্রের খরা-পীড়ত ও দুস্থ কৃষকদের জন্য তাঁর অবিস্মরণীয় কাজের কথা।

এর পাশাপাশি নানার জীবনের একটি দীর্ঘদিনের বিতর্কিত বিষয়—তাঁর তীব্র রাগ এবং তা নিয়ে চলা সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন মিঠুন। বিভিন্ন সময়ে নানা নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে তিনি মেজাজ নিয়ন্ত্রণে সমস্যায় পড়েন। তবে বন্ধুকে সমর্থন করে মিঠুন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “নানাকে নিয়ে অনেকে বলতেন যে তিনি খুব রেগে যান… কিন্তু চারপাশের পরিবেশ যদি এতটুকুই বিশৃঙ্খল ও অনিয়মে ভরা থাকে, তবে এমন পরিবেশে রাগ হওয়াটা তো খুবই স্বাভাবিক।” নানা পাটেকরের এই অপ্রত্যাশিত প্রয়াণ এক যুগের অবসান ঘটিয়েছে, যা তাঁর ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের চিরকাল কাঁদাবে।