হুট করে দাঁড়ালেই কি মাথা ঘোরে? অবহেলা করলে নেমে আসতে পারে বড় বিপদ!

ঘুম থেকে ওঠার পর কিংবা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পর হঠাৎ করে দাঁড়িয়ে পড়লেই যদি চারপাশ ঘুরতে শুরু করে বা চোখে অন্ধকার দেখে মনে হয় অজ্ঞান হয়ে যাবেন, তবে এই লক্ষণটিকে কখনোই সাধারণ বা ক্ষণস্থায়ী দুর্বলতা ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে ‘অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন’ (Orthostatic Hypotension) বা পচারাল হাইপোটেনশন বলা হয়। যখন কেউ খুব দ্রুত বসে থাকা বা শোয়া অবস্থা থেকে দাঁড়িয়ে পড়েন, তখন মাধ্যাকর্ষণের টানে শরীরের নিচের অংশে রক্ত জমা হয়ে যায়। ফলে মস্তিষ্ক ও হৃদপিণ্ডে সাময়িকভাবে রক্তের সরবরাহ ও অক্সিজেন ঘাটতি তৈরি হয়, যা এই মাথা ঘোরার মূল কারণ।
চিকিৎসকদের মতে, শরীরে জলের ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন, দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা, রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া, রক্তচাপের ওষুধ, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের মতো জটিল শারীরিক সমস্যার কারণে এই সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। অনেক সময় বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই হঠাৎ মাথা ঘোরার ফলে মেঝেতে পড়ে গিয়ে হাড় ভেঙে যাওয়ার বা গুরুতর চোট পাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এমনকি মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ না হওয়ার কারণে স্ট্রোক বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের মতো প্রাণঘাতী পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
তবে সামান্য কিছু সচেতনতা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনেই এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, শোয়া বা বসা অবস্থা থেকে সবসময় ধীরে ধীরে এবং সাবধানে দাঁড়ানোর অভ্যাস করতে হবে। শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সারাদিন প্রচুর পরিমাণে জল, ওআরএস এবং ইলেক্ট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় পান করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া দীর্ঘক্ষণ একভাবে না থেকে হালকা চলাফেরা করা এবং নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এই সমস্যা দূর করতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। যদি সমস্যা নিয়মিত হতে থাকে, তবে দেরি না করে অবিলম্বে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সচেতনতাই পারে আপনাকে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করতে।