টাকার মান কমলেও ঘুরে দাঁড়াবে রুপি! বড় বার্তা আরবিআই গভর্নরের

মার্কিন ডলারের সাপেক্ষে ভারতীয় মুদ্রার বিনিময় হার বর্তমানে তার প্রকৃত মূল্যের তুলনায় কিছুটা কম রয়েছে বলে মন্তব্য করলেন ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা। বুধবার চলতি অর্থবর্ষের চতুর্থ मौद्रिक নীতি (মনিটরি পলিসি) পর্যালোচনা পেশ করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই কথা জানান। তবে একই সঙ্গে তিনি দেশবাসীকে সম্পূর্ণ আশ্বাস দিয়ে বলেছেন যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভারতীয় মুদ্রাকে শক্তিশালী ও ‘স্থির’ রাখতে এবং একে তার ‘উचित মূল্যে’ ফিরিয়ে আনতে সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
চলতি সপ্তাহে বুধবারের ট্রেডিং সেশনে মার্কিন ডলারের সাপেক্ষে ভারতীয় মুদ্রা ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তর অর্থাৎ ৯৬.৯৬ টাকার কাছাকাছি এসে পৌঁছায়। এই পরিস্থিতির মধ্যেই গভর্নরের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। স্বল্প মেয়াদে বাজার অনেক সময় নিখুঁত বা যুক্তিযুক্ত আচরণ করে না বলেই মনে করেন গভর্নর। তবে তাঁর মতে, দীর্ঘ মেয়াদে বাজারই কোনো মুদ্রার সঠিক মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে।
গভর্নর স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ‘‘আমরা এটা নিশ্চিত করব যাতে রুপি স্থিতিশীল থাকে এবং তার আসল বা সঠিক মূল্য খুঁজে পায়। আমরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে রুপির মান স্বাভাবিক করতে এবং বাজারে অতিরিক্ত বা আকস্মিক অস্থিরতা রোধ করতে পুরোপুরি তৎপর আছি।’’ ‘রিয়েল ইফেক্টিভ এক্সচেঞ্জ রেট’ (REER)-সহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক মূল্যায়নের নিরিখেই যে বর্তমান মুদ্রার হার তার প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম রয়েছে, সেকথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।
চলতি বছর জুড়ে ভারতীয় মুদ্রার ওপর লাগাতার অর্থনৈতিক চাপ বজায় রয়েছে। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে পশ্চিম এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েলের দাম হু হু করে বৃদ্ধি পায়, যা সরাসরি প্রভাব ফেলে রুপির ওপর। যেহেতু ভারত তার জ্বালানি বা তেলের প্রয়োজনের সিংহভাগই আমদানি করে থাকে, তাই বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে দেশের আমদানি ব্যয় এবং মার্কিন ডলারের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়।
রুপির এই লাগাতার পতনকে ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিমধ্যে একাধিক বড় পদক্ষেপ করেছে। এর অংশ হিসেবে প্রবাসী ভারতীয়দের (NRI) ফিক্সড ডিপোজিট এবং বন্ডের মাধ্যমে বিশেষ কনসোলেশন বা সুদের সুবিধা দিয়ে প্রায় ১৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে সাময়িকভাবে মুদ্রা বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিললেও সম্প্রতি আবারও রুপির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর আরবিআই-এর ডেপুটি গভর্নর পুনম গুপ্তাও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, বর্তমান স্তর থেকে রুপির ঘুরে দাঁড়ানোর এবং আরও শক্তিশালী হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিচার করে এটাই স্পষ্ট যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো নির্দিষ্ট কৃত্রিম স্তর ধরে রাখার চেয়ে বাজারে অস্বাভাবিক ওঠানামা রোধ করে মুদ্রাকে তার স্বাভাবিক গতিতে সঠিক মূল্যে পৌঁছাতে সাহায্য করতে বদ্ধপরিকর।