শিলিগুড়িতে সাফাই বিপ্লব! শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হলো ১২টি অত্যাধুনিক জিপিএস ট্র্যাকড গাড়ি

শিলিগুড়ি শহরকে আরও তিলোত্তমা, পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত করে গড়ে তুলতে বুধবার শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজকে আরও দ্রুত, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক করে তুলতে সাফাই অভিযানে যুক্ত হলো ১২টি নতুন আধুনিক গাড়ি। বাঘাযতীন পার্কে আয়োজিত ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’ কর্মসূচির মঞ্চ থেকে এই পরিষেবা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার যানগুলির শুভ উদ্বোধন করা হয়।

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন, “শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা কেবল পৌর প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য। আধুনিক পরিকাঠামো এবং পর্যাপ্ত গাড়ি পরিষেবায় যুক্ত হলে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার সাফাই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। শিলিগুড়িকে আরও সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” তিনি আরও বলেন যে, শুধুমাত্র নতুন গাড়ি যুক্ত করলেই হবে না, সেগুলির সঠিক ব্যবহার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দিকেও কড়া নজর রাখতে হবে।

শহরের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও নতুন প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে মন্ত্রী জানান, একটি শহরের জন্য রাস্তা, বিদ্যুৎ, জল এবং জলনিকাশি ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিগত দিনে উন্নয়নের সঙ্গে রাজনীতির অনভিপ্রেত মিশ্রণের দরুণ শিলিগুড়ির সাধারণ মানুষ এই নাগরিক পরিষেবা থেকে অনেকটাই বঞ্চিত হয়েছেন। নতুন ব্যবস্থার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, রাজ্য সরকারের পুর ও নগর উন্নয়ন দফতরের বিশেষ বরাদ্দে প্রায় ৪ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই ১২টি পরিচ্ছন্নতা গাড়ি শিলিগুড়ি মিউনিসিপাল কর্পোরেশনকে প্রদান করা হয়েছে।

গাড়িগুলির মূল প্রযুক্তিগত সংযোজন হলো ‘জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম’। দেশের বড় বড় মেগাসিটিগুলির মতো শিলিগুড়িতেও এই প্রযুক্তি চালু হওয়ায় একদিকে যেমন গাড়িগুলির অবস্থান সরাসরি ট্র্যাক করা যাবে, অন্যদিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হচ্ছে কিনা তা মনিটরিং করে নিয়মানুবর্তিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। উদ্বোধনের পরপরই নতুন গাড়িগুলিকে শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতার কাজে নামানোর প্রস্তুতি শুরু হয়। প্রশাসনের এই যৌথ পদক্ষেপ ও প্রযুক্তির ব্যবহারে শিলিগুড়ির সাফাই ব্যবস্থাপনায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বলে মনে করছেন শহরবাসী।