পদত্যাগের দাবিতে উত্তপ্ত রাজনীতি! তীব্র বিক্ষোভের মাঝে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ছত্তিশগড় সফর স্থগিত

নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগে মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বর্তমানে গোটা জাতীয় রাজনীতিতে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। পড়ুয়া থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল রাজপথে নেমে তীব্র প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু করেছে। এমন এক অশান্ত ও উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকদের দু’দিনের নির্ধারিত ছত্তিশগড় সফর ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে ‘অনিবার্য কারণবশত’ সেই সফর স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দপ্তর থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সূত্রের খবর, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী জ্ঞানেশ কুমারের দান্তেওয়াড়ার দন্তেশ্বরী মাতা মন্দির, বস্তারের চিত্রকোট জলপ্রপাত এবং কবীরধাম জেলার ভোরমদেব মন্দির দর্শনে যাওয়ার কথা ছিল। এই সফরের জন্য রাজ্য সরকার তাঁকে ‘স্টেট গেস্ট’ বা রাজ্য অতিথির মর্যাদা প্রদান করেছিল। রায়পুর প্রশাসন, পুলিশ এবং স্বামী বিবেকানন্দ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই তাঁর অভ্যর্থনা ও নিরাপত্তার যাবতীয় প্রস্তুতিও সম্পূর্ণ করে ফেলেছিল। তবে রাজ্য সিইও অফিস জানিয়েছে, সফর স্থগিত হলেও নতুন কোনো তারিখ এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও কোনো সংশোধিত সময়সূচি পাঠানো হয়নি। এর আগেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে মিরাট, বারাণসী, লাদাখ, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পূর্বনির্ধারিত সফর স্থগিত রাখা হয়েছিল।
এদিকে, এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি গত কাল মঙ্গলবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলন নতুন মাত্রা নেয়। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন অফিসের চত্বরে প্রায় আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দীর্ঘ ধর্না-বিক্ষোভ চলে। ‘ভোট চুরি’-র গুরুতর অভিযোগ তুলে বিরোধী সাংসদরা সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের দিকে একটি প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে এগোতে থাকেন। তবে পুলিশি ব্যারিকেড দিয়ে সেই মিছিল আটকে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন সাংসদকে আটক করা হয়।
পুলিশি বাধার মুখে পড়ে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ অন্যান্য শীর্ষ বিরোধী নেতারা কমিশন অফিসের ঠিক পাশেই আকাশবাণী ভবন প্রাঙ্গণে মাটিতে বসে পড়েন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের দাবিতে তাঁরা লাগাতার ধর্না চালাতে থাকেন। টানা কয়েক ঘণ্টার এই নাটকীয় ধর্নার পর রাত ৮টার পর পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বলপূর্বক হটিয়ে দেয়। প্রথমে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং কংগ্রেস নেতা কেসি বেণুগোপাল-সহ একাধিক শীর্ষ বিরোধী নেতাকে পুলিশ আটক করে। পরবর্তীতে অবশ্য তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। সবমিলিয়ে, সাংবিধানিক এই সংস্থার বিরুদ্ধে বিরোধীদের এই আক্রমণ এবং একের পর এক সফর বাতিলের ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন দারুণভাবে সরগরম।