ভারতের জন্য দুয়ার খুলছে কলম্বো! শ্রীলঙ্কা এক্সপো ২০২৭-এ যোগ দিতে বড় আমন্ত্রণ দ্বীপরাষ্ট্রের

ভারতীয় ব্যবসা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য নিজেদের বাজার আরও উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে শ্রীলঙ্কা। আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালের ১৪ থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজধানী কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হতে চলা মর্যাদাপূর্ণ ‘শ্রীলঙ্কা এক্সপো ২০২৭’-এ অংশগ্রহণের জন্য ভারতীয় ব্যবসায়ী নেতাদের আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার হাই কমিশনার মহিষিণী কলোন্নাই। এই মেগা ইভেন্টের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শ্রীলঙ্কার হাই কমিশনারের মতে, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে ঐতিহাসিকভাবেই অত্যন্ত শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও জনগণের পারস্পরিক সুসম্পর্ক রয়েছে। তবে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এখনও বিপুল সম্ভাবনা অব্যক্ত রয়েছে। ভারতীয় কোম্পানিগুলোর জন্য বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বন্দর এবং লজিস্টিকস, উৎপাদন, পর্যটন, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং ডিজিটাল পরিষেবার মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, শ্রীলঙ্কার কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা আঞ্চলিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত অনুকূল, যার মাধ্যমে ভারতীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলি আরও বড় বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশাধিকার পেতে পারে।

সম্প্রতি আয়োজিত ‘বিমস্টেকভুক্ত দেশগুলিতে ব্যবসার সুযোগ’ শীর্ষক এক বিশেষ সম্মেলনে এই বিষয়গুলি অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। এই সম্মেলনে বিমস্টেকভুক্ত সাতটি সদস্য দেশের শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং প্রায় ৮০ জন বিশিষ্ট ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (পূর্ব) সচিব রাষ্ট্রদূত রুদ্রেন্দ্র ট্যান্ডন বিমস্টেক দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন এবং ভারতীয় ব্যবসায়ীদের এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া বিমস্টেক মহাসচিব রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র মণি পাণ্ডে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেছেন।

সর্বপরি, ‘শ্রীলঙ্কা এক্সপো ২০২৭’ বিশ্বজুড়ে রপ্তানিকারক, আন্তর্জাতিক ক্রেতা, বিনিয়োগকারী এবং শিল্প প্রতিনিধিদের এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসবে। শ্রীলঙ্কা এই অনন্য মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে তৎপর। এর মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক কেবল ঐতিহ্যবাহী কূটনীতি ও পর্যটনের গণ্ডি পেরিয়ে বাণিজ্য ও নতুন শিল্প অংশীদারিত্বের এক নতুন যুগে প্রবেশ করতে চলেছে।