কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী! দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কীভাবে আলাদা সাজে সেজে ওঠে শারদীয়া নবরাত্রি?

পঞ্জিকা অনুসারে, ২০২৬ সালের শারদীয় নবরাত্রি শুরু হবে রবিবার, ১১ই অক্টোবর এবং এই নয় দিনব্যাপী উৎসব ১৯শে অক্টোবর মহানবমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে। তবে এই নয় দিনের উৎসব কেবল একক কোনো নিয়মে বাঁধা নয়; কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী এবং গুজরাট থেকে পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত, দেশের প্রতিটি কোণায় নবরাত্রির রয়েছে নিজস্ব স্বতন্ত্র পরিচয় ও মনোমুগ্ধকর ঐতিহ্য।
কাশ্মীরি পণ্ডিত সম্প্রদায়ের কাছে মাতা ক্ষীর ভবানী মন্দির বিশ্বাসের এক অন্যতম কেন্দ্র। নবরাত্রির দিনগুলিতে এখানে ভক্তরা বিশেষ পূজা ও উপবাসে ব্রতী হন। অন্যদিকে, গুজরাটে নবরাত্রির রাতগুলো মুখরিত থাকে ঐতিহ্যবাহী গরবা ও ডান্ডিয়ার সুরে। দেবী অম্বার পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই নৃত্য পুরো পরিবেশকে এক অনন্য উৎসবে রূপ দেয়। পূর্ব ভারতে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে, নবরাত্রির শেষ দিনগুলোতে দুর্গাপূজা এবং বিজয়াদশমীর দিন সিঁদুর খেলার প্রথা এক অন্য মাত্রা যোগ করে। বিবাহিত মহিলারা দেবীকে সিঁদুর নিবেদনের পর একে অপরের কপালে সিঁদুর মাখিয়ে পারিবারিক মঙ্গল ও দাম্পত্য সুখের প্রার্থনা করেন।
হিমাচল প্রদেশে নবরাত্রির ঠিক পরেই জমকালো কুল্লু দশেরা উৎসব শুরু হয়। ভগবান রঘুনাথের বিশাল রথযাত্রা এবং বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা দেব-দেবীদের শোভাযাত্রা এই অঞ্চলের উৎসবকে করে তোলে অবিস্মরণীয়। পাশাপাশি, দেশের দক্ষিণতম প্রান্ত কন্যাকুমারীতেও নবরাত্রি উদযাপনের নিজস্ব বিশেষ রীতি রয়েছে, যেখানে দেব-দেবীর মূর্তি নিয়ে ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রা স্থানীয় সংস্কৃতির এক অনন্য ঝলক তুলে ধরে।