স্বামীর মৃত্যুর কারণ ‘হার্ট অ্যাটাক’! ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপের এক চ্যাটেই ফাঁস স্ত্রীর ভয়ংকর খুনোখুনি কাণ্ড

উত্তরপ্রদেশের মিরাটের লোহিয়া নগর এলাকা থেকে এক চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে, যা শুনে শিউরে উঠছেন সকলে। পরকীয়া সম্পর্কের টানে প্রেমিকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিজের স্বামীকেই খুন করার অভিযোগ উঠেছে এক তরুণীর বিরুদ্ধে। প্রথমে গোটা ঘটনাটিকে হার্ট অ্যাটাক বা স্বাভাবিক মৃত্যু বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, মৃত যুবকের মোবাইল ফোনের একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটেই ফাঁস হয়ে যায় পুরো ষড়যন্ত্র। এই লোমহর্ষক ঘটনায় ইতিমধ্যেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম তালিব (৩০)। প্রায় চার বছর আগে পেশায় বিউটিশিয়ান ২৭ বছর বয়সি ইলমার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। দম্পতির একটি তিন বছরের কন্যাসন্তানও রয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার দিন ইলমা তার দাদা আক্রমকে ফোন করে জানায় যে, অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পর হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন তালিব এবং বিছানায় শুয়ে পড়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। আকস্মিক এই মৃত্যুতে যুবকের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলেই ধরে নেয় পরিবার এবং সেই অনুযায়ী তড়িঘড়ি তাঁর মৃতদেহ সমাহিতও করা হয়।

কিন্তু এর কিছুদিন পর থেকেই মৃতের পরিবারের সদস্যদের মনে নানা সন্দেহের দানা বাঁধতে শুরু করে। গত ১ অক্টোবর তালিবের খুড়তুতো ভাই রইস ইলমার বাড়িতে যান। তিনি লক্ষ্য করেন, তালিবের মোবাইল ফোনটি সুকৌশলে লুকিয়ে রেখেছেন ইলমা। এরপর তল্লাশি চালিয়ে তালিবের জামাকাপড়ের ভেতর থেকে তাঁর সেই মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করেন রইস। ফোনটি খোলার পরই চোখ কপালে ওঠে তাঁর। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ঘেঁটে রইস দেখতে পান, আমন নামে এক যুবকের সঙ্গে ইলমার অবৈধ সম্পর্কের তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন তালিব এবং তাঁকে ওই যুবকের সঙ্গে কথা বলতেও বারণ করেছিলেন।

ফোনে এই আপত্তিকর চ্যাট ও কথোপকথন দেখেই পরিবারের সন্দেহ দৃঢ় হয়। এরপর সকলে মিলে ইলমাকে চাপ দিতেই সে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়। ইলমা পুলিশকে জানায়, তালিব প্রায়শই তাকে মারধর করতেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বরও তালিবের সঙ্গে তার বচসা ও মারপিট হয়। এর পরই ক্ষিপ্ত হয়ে ইলমা নিজের প্রেমিক আমনকে ফোন করে ডেকে পাঠায়। আমন তার এক বন্ধুকে নিয়ে সোজা ইলমার বাড়িতে চলে আসে। এরপর প্রেমিক ও তার বন্ধু মিলে মারধর করে তালিবকে অচৈতন্য করে দেয় এবং পরে গলায় ফাঁস দিয়ে তাঁকে খুন করে। এমনকি আমন তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল বলে জানায় ইলমা।

পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই তালিবের মৃতদেহ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত স্ত্রী ইলমাকে পুলিশি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।