সিকিমে এবার সোজা ট্রেনের হুইসল! রাজধানী গ্যাংটককে সরাসরি রেল মানচিত্রে জুড়তে ৯ হাজার কোটির মেগা প্রজেক্ট

ভারতের রেল মানচিত্রে সিকিমকে আরও অনেক বেশি এগিয়ে নিয়ে যেতে এক ঐতিহাসিক ও বিরাট উদ্যোগ নিতে চলেছে ভারতীয় রেল। এবার সিকিমের রাজধানী গ্যাংটককে সরাসরি দেশের প্রধান রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই মেগা প্রকল্পের আওতায় রংপো থেকে গ্যাংটক পর্যন্ত প্রস্তাবিত প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন রেললাইন নির্মাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাহাড়ি ও দুর্গম এই রেলপ্রকল্পের জন্য আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৯,০০০ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী গতিশক্তি ন্যাশনাল মাস্টার প্ল্যান’-এর অধীনে গঠিত ইন্টিগ্রেটেড মাল্টিমোডাল নেটওয়ার্ক প্ল্যানিং গ্রুপ (NPG)-এর সাম্প্রতিক বৈঠকে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বর্তমানে সিকিমের রংপোর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ের সেবককে যুক্ত করার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। রেল মন্ত্রকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সেবক-রংপো রেল প্রকল্পটি ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই সম্পূর্ণ করার কাজ চলছে। প্রায় ৪৪.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেবক-রংপো রেললাইন তৈরিতে আনুমানিক ১৭,১২৪ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকার কঠিন ভূপ্রকৃতি, গভীর খাদ এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নির্মাণকাজে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হলেও আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে দীর্ঘ সুড়ঙ্গ ও একাধিক বড় সেতু নির্মাণের কাজ চালানো হচ্ছে। এই সুনির্দিষ্ট প্রকল্প সম্পূর্ণ হলেই সিকিম রাজ্য প্রথমবারের মতো সরাসরি রেল যোগাযোগের ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁতে চলেছে।

সেবক-রংপো রেল প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পরই পরবর্তী ধাপ হিসেবে রংপো থেকে গ্যাংটক পর্যন্ত প্রস্তাবিত ৩৪ কিলোমিটার রেললাইন তৈরির কাজ শুরু হবে। ৯,০০০ কোটি টাকার এই দ্বিতীয় ধাপের প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সিকিমের রাজধানী গ্যাংটক সরাসরি দেশের অন্যান্য প্রান্তের সঙ্গে রেলপথে যুক্ত হয়ে যাবে। এর ফলে একদিকে যেমন পর্যটকদের যাতায়াত আরও অনেক বেশি সহজ ও আরামদায়ক হবে, তেমনই পাহাড়ি রাজ্যটির ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং কৌশলগত যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও এক বিশাল বিপ্লব আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।