জলের ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে নেমে মৃত্যু ৪ পড়ুয়ার, কাঠগড়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষ

আবাসিক স্কুলের ভূগর্ভস্থ জলের ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে নেমে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হলো পাঁচ ছাত্র। বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে এসে প্রাণ হারিয়েছেন চার জন পড়ুয়া এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও এক জন। উত্তরপ্রদেশের বৃন্দাবনের চৈতন্য বিহার এলাকার এক নামজাদা সংস্কৃত স্কুলে মঙ্গলবার এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে, যা বুধবার জানাজানি হতেই তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত পড়ুয়াদের বয়স ১৭ থেকে ২০ বছরের মধ্যে বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, স্কুলের প্রায় ১২ থেকে ১৪ ফুট গভীর একটি ভূগর্ভস্থ জলের ট্যাঙ্ক থেকে মঙ্গলবার তীব্র দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। পরিস্থিতি দেখতে ও পরিষ্কার করতে উদ্যোগী হন কয়েকজন পড়ুয়া। প্রাথমিকভাবে জল তোলার একটি মোটর ব্যবহার করে জল ও ভেতরের জমা পাঁক বের করার চেষ্টা চালানো হয়।
তবে ট্যাঙ্কটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার না হওয়ায় এক পড়ুয়া ভেতরে নামেন। বেশ কিছুক্ষণ পার হয়ে গেলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে এবং বিপদের আশঙ্কায় তাঁকে উদ্ধার করতে একে একে আরও চার সহপাঠী ট্যাঙ্কের ভেতরে প্রবেশ করেন।
বিষাক্ত গ্যাসের থাবা ও উদ্ধার অভিযান
ট্যাঙ্কের ভেতরে জমানো মারাত্মক বিষাক্ত গ্যাসের কারণে মুহূর্তের মধ্যেই পাঁচজনই অচেতন ও মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও উপস্থিত বাকিরা তড়িঘড়ি তাঁদের ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে চিকিৎসকরা চার পড়ুয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসাধীন একমাত্র বেঁচে যাওয়া পড়ুয়ার নাম রুদ্র, যাঁকে চিকিৎসকদের কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
পুলিশি তদন্ত ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনার তীব্রতা উপলব্ধি করে মথুরার সিনিয়র পুলিশ সুপার (SSP) শ্লোক কুমার জানিয়েছেন, ঠিক কীভাবে এবং কী ধরনের বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, নিরাপত্তা বিধি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কোনো পেশাদার কর্মী ছাড়া কেন অনভিজ্ঞ কমবয়সী পড়ুয়াদের দিয়ে এমন বিপজ্জনক জলের ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করানো হলো, সেই নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বজ্ঞানহীন ভূমিকার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। এলাকার অন্যান্য সমস্ত আবাসিক স্কুলে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি ঠিকমতো মেনে চলা হচ্ছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।