“ইস্তফার দাবিতে উত্তাল দেশ”-সুপ্রিম কোর্টের তোপ! ব্যাকফুটে গিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিলেন জ্ঞানেশ কুমার?

চারদিকে বিরোধীদের তীব্র বিক্ষোভ, রাজনৈতিক তোলপাড় এবং সুপ্রিম কোর্টের কড়া নজরদারির মাঝেই ফের বড় সিদ্ধান্ত। চরম বিতর্কের মুখে পড়ে এবার আচমকাই নিজের দু’দিনের ছত্তিশগড় সফর স্থগিত ঘোষণা করলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার। আজ, বুধবার এবং আগামীকাল, বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে তাঁর ছত্তিশগড় সফরের কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে হঠাৎই সেই কর্মসূচি স্থগিত করে দেওয়া হয়।
বারবার সফর বাতিল, নেপথ্যে কি ক্রমবর্ধিত চাপ?
ছত্তিশগড়ের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তর থেকে জারি করা সরকারি চিঠিতে সফর স্থগিতের কারণ হিসেবে কেবল ‘অনিবার্য কারণ’-এর কথাই উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি প্রথম নয়—এর আগেও তীব্র বিতর্কের মুখে পড়ে উত্তরপ্রদেশের মিরাট ও বারাণসী সফর স্থগিত করতে হয়েছিল তাঁকে। এমনকি তার আগে লাদাখ, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ড সফরও একইভাবে স্থগিত করা হয়।
দু’দিনের এই কর্মসূচিতে ছত্তিশগড় সরকারের ‘রাজ্য অতিথি’ হিসেবে দন্তেওয়াড়ার দন্তেশ্বরী মন্দির, বস্তারের চিত্রকোট জলপ্রপাত এবং কবীরধামের ভোরমদেও মন্দিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। রায়পুর প্রশাসন থেকে শুরু করে পুলিশ দপ্তর ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জোরকদমে প্রস্তুতিও সেরে রেখেছিল। তবে সফর বাতিল হওয়ায় আপাতত সব আয়োজনে ছেদ পড়েছে। কমিশন জানিয়েছে, পরবর্তীতে সংশোধিত সূচি এলে তা জানানো হবে।
রাস্তায় রাজপথ, সংসদ থেকে সুপ্রিম কোর্ট: চতুর্মুখী কোণঠাসা CEC
ভোটদান প্রক্রিয়া ও বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধন (SIR) এবং ফর্ম-৬ (Form 6) পরিবর্তন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পর থেকেই বিরোধীদের নিশানায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। বর্তমানে পরিস্থিতি যে কঠিন রূপ নিয়েছে:
দিল্লিতে বিরোধীদের ধর্না ও আন্দোলন: ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩.৫ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগে সরব কংগ্রেস সহ INDI জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব। জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে ইস্তফার দাবিতে আজ ফের ‘নির্বাচন সদন’ অভিমুখে বিক্ষোভ ও ঘেরাও অভিযানের ডাক দিয়েছে তারা। পাশাপাশি, দেশজুড়ে চলমান ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ অভিযানের অংশ হিসেবে জেলায় জেলায় চলছে প্রতিবাদ মিছিল।
সুপ্রিম কোর্টের নোটিস ও কড়া বার্তা: নির্বাচন কমিশনের অন্দরে বাকি দুই কমিশনারের অনুমোদন ছাড়াই এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং স্বয়ং জ্ঞানেশ কুমারকে নোটিস পাঠিয়েছে।
শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ: মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ফর্ম-৬ পরিবর্তনের কোনও অনুমতি আদালত দেয়নি। কমিশন আইন ভেঙে কোনও সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকলে তা বাতিলও করে দেওয়া হতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে রাজপথে বিরোধীদের লাগাতার আন্দোলন, আর অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের আইনি তোপ—এই দ্বিবিধ চাপের মুখে পড়েই বারবার নিজের রাজ্য সফর পিছিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন দেশের শীর্ষ নির্বাচন আধিকারিক।