পঞ্চায়েত ভোটের আগে বেহাল দশা ধোলপুরের! নর্দমার জলে ভাসছে খেত, পানীয় জলের তীব্র সংকটে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা

পঞ্চায়েত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই রাজস্থানের গ্রামীণ রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। এর মাঝেই নিউজ১৮ রাজস্থানের বিশেষ অনুষ্ঠান ‘গাঁও কি চৌপাল’-এর দল ধোলপুর পঞ্চায়েত সমিতির ভৈনসাখ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ভৈনসাখ এবং সামোলা গ্রামে পৌঁছে সেখানকার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। প্রায় ৪,০০০ জনসংখ্যা এবং ২,১০০ ভোটারের এই গ্রামগুলির বাসিন্দারা রাস্তা, পানীয় জল, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও পয়ঃনিষ্কাশনের মতো মৌলিক সমস্যাগুলোর দীর্ঘস্থায়ী বঞ্চনার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন।

সামোলা গ্রামের প্রধান সমস্যাগুলির মধ্যে অন্যতম হলো ধোলপুর শহর থেকে নেমে আসা নর্দমার জল, যা প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ একর উর্বর কৃষি জমি সম্পূর্ণ ডুবিয়ে দিচ্ছে। গত দুই বছর ধরে এই নোংরা জলে খেতগুলি নষ্ট হওয়ায় কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে। গ্রামবাসীদের একটাই দাবি, অবিলম্বে এই জল নিষ্কাশনের বিকল্প ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি, জল জীবন মিশনের অধীনে নির্মিত একটি জলের ট্যাঙ্কের কাজ মাঝপথে অসম্পূর্ণ পড়ে থাকায় গ্রামে তীব্র পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে বহু দূরে গিয়ে বা ব্যক্তিগত সাবমার্সিবল পাম্প থেকে জল সংগ্রহ করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

এদিকে নিকাশি ব্যবস্থার চরম বেহাল দশার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই গ্রামের রাস্তাগুলি কর্দমাক্ত ও চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে। সামোলা গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বর্ষার জলে প্লাবিত হওয়ায় শিশুদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এ ছাড়া ধোলপুর থেকে ঐতিহাসিক বানখান্ডি হনুমান মন্দিরগামী মূল রাস্তাটির অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর টাগাওয়ালি গ্রাম পৌরসভায় যুক্ত হওয়ার পর ভৈনসাখ ও সামোলা নিয়ে নতুন পঞ্চায়েত গঠিত হলেও সাধারণ মানুষের দুর্দশার এক বিন্দুও পরিবর্তন হয়নি। আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে নতুন সরকার গঠনের পর এই দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলির স্থায়ী সমাধান মিলবে কি না, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রয়েছে গ্রামবাসী।