‘জ্ঞানেশ হঠাও’ স্লোগানে কাঁপছে রাজধানী! মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ধুন্ধুমার নির্বাচন কমিশন চত্বর

দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে নির্বাচন কমিশন। দিন যত এগোচ্ছে, ততই জোরালো হচ্ছে আন্দোলন। রাজপথ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া—সর্বত্র এখন প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে দেশের ক্ষুব্ধ যুবসমাজ অর্থাৎ ‘জেন-জি’ (Gen Z) এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির যৌথ মঞ্চ ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA)। মঙ্গলবার এই আন্দোলনের তেজ চরম রূপ ধারণ করে, যখন হাজার হাজার প্রতিবাদী মুখ ও বিরোধী নেতৃত্ব সোজা নির্বাচন কমিশনের সদর দফতর ঘেরাও করতে অভিযানে নামে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক অসন্তোষ এ দিন বিস্ফোরক রূপ নেয়। আন্দোলনকারীদের একটдаই স্পষ্ট ও হুঙ্কারভরা দাবি—‘জ্ঞানেশ হঠাও’। রাজধানী দিল্লির রাজপথ আজ বিরোধী নেতাকর্মী ও সাধারণ ক্ষুব্ধ যুবকদের স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। বিরোধীদের অভিযোগ, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে এক গভীর প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভিতকে নাড়িয়ে দিচ্ছে। আর সেই আস্থাহীনতার পরিবেশ থেকেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে নির্বাচন কমিশন চত্বর ও তার আশপাশের এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। ব্যারিকেড দিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হলেও আন্দোলনকারীদের জমায়েত এবং ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করা প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেন-জি প্রজন্ম এবং সমস্ত প্রধান বিরোধী দল যেভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই আন্দোলনে নেমেছে, তাতে কেন্দ্রের ওপর রাজনৈতিক ও নৈতিক চাপ বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। আগামী দিনে এই আন্দোলন কোন রূপ নেয় এবং নির্বাচন কমিশন বা সরকার এই পরিস্থিতিতে কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই এখন নজর গোটা দেশের।