শুভেন্দুর গড়ে বিরাট চমক! মমতার সমর্থন কার দিকে? জানুন উপনির্বাচনের সব বড় আপডেট

পশ্চিমবঙ্গের দুই হাই-প্রোফাইল বিধানসভা কেন্দ্র—নন্দীগ্রাম এবং রেজিগরে উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনার পারদ চড়েছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত দুই কেন্দ্রে গড় ভোটদানের হার ছিল ৫৬ থেকে ৬০ শতাংশের ঘরে। কঠোর নিরাপত্তা বলয় এবং কিছু বিচ্ছিন্ন অশান্তি ও রাজনৈতিক তরজার মধ্য দিয়ে এই ভোটগ্রহণ পর্ব চলছে। সকাল ৭টায় শুরু হওয়া এই ভোটাভুটি একটানা চলবে বিকেল ৬টা পর্যন্ত।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মর্যাদাপূর্ণ নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে দুপুর ১টা পর্যন্ত ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ৬০.৩২ শতাংশ ভোটগ্রহণ নথিভুক্ত হয়েছে। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের রেজিগর আসনে একই সময়ে ৫৬.৪৩০ শতাংশ ভোটার তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, কিছু বিক্ষিপ্ত অপ্রীতিকর ঘটনা ও উত্তেজনা বাদ দিলে সার্বিকভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই এগোচ্ছে। উভয় কেন্দ্রেই পর্যাপ্ত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনো রকম বিশৃঙ্খলা তৈরি না হতে পারে।

এদিনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বড় চমক ও উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে রেজিগর আসনটি। সেখানে ভোটগ্রহণ চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে চরম বচসায় জড়িয়ে পড়ার জেরে ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (AJUP)-র প্রধান হুমায়ুন কবীরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই গ্রেপ্তারির পরেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি নিয়ে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের কাছে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম আসনটির রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। অতীতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক ভূমি অধিগ্রহণ আন্দোলনের সূতিকাগার ছিল এই নন্দীগ্রাম, যা ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পথ প্রশস্ত করেছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই হেভিওয়েট বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন। এরপর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—উভয় আসন থেকেই জয়লাভ করলেও শেষ পর্যন্ত ভবানীপুর আসনটি নিজের হাতে রাখেন এবং নন্দীগ্রাম আসনটি ফাঁকা হয়ে যায়। যার ফলেই এই উপনির্বাচন অনিবার্য হয়ে পড়ে।

বিজেপির পক্ষ থেকে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থী করা হয়েছে প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে। এই চন্দ্রনাথ রথ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী, যিনি নির্বাচনের ঠিক দুদিন পরেই অর্থাৎ গত ৬ মে রহস্যজনকভাবে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের মূল স্রোতের প্রার্থী সঞ্চিত প্রধানে দে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর অপ্রত্যাশিতভাবে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে কোনো দলীয় প্রার্থী না থাকায় তাঁরা সরাসরি কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন জানান। এই সিদ্ধান্তকে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটকে আরও শক্তিশালী করার একটি বড় কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিদ্রোহী বা প্রতিদ্বন্দ্বী অংশ থেকে মোহাম্মাদ এতেশামুল হককে ‘লিফাফা’ প্রতীক দিয়ে ময়দানে নামানো হয়েছে এবং সিপিআই (CPI) প্রার্থীরূপে লড়ছেন শান্তিগোপাল গিরি।

অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের রেজিগর আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে কারণ ২০২৬ সালের নির্বাচনে এখান থেকে জয়ী হওয়া হুমায়ুন কবীর অন্য আসনটি নিজের কাছে রেখে রেজিগর আসন ছেড়ে দেন। তাঁর দল থেকে এই আসনে লড়ছেন হুমায়ুন কবীরের নিজের ছেলে গোলাম নবী। এছাড়া এই আসনে বিজেপির প্রার্থী সখরাও সরকার, তৃণমূল কংগ্রেসের রবিউল আলম চৌধুরী, কংগ্রেস প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি এবং বামফ্রন্টের সৈয়দ আসাদ আলীসহ একাধিক প্রার্থী ভাগ্যপরীক্ষায় নেমেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট সম্পন্ন করতে সব ধরনের পদক্ষেপ করা হয়েছে।