মোবাইল থেকে সোজা মাইক্রোচিপ! উত্তরপ্রদেশের রূপ বদলে যোগী আদিত্যনাথের মেগাপ্রজেক্টের ঘোষণা!

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের সামগ্রিক অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক উন্নয়নের এক রূপরেখা প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, ২০১৭ সাল থেকে রাজ্যটি প্রতিটি ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নতি লাভ করেছে। পূর্ববর্তী সরকারগুলির তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, যখন রাজ্যের উন্নয়নের চেয়ে একটি বিশেষ পরিবারের স্বার্থে এবং বিনিয়োগকারীদের চেয়ে অপরাধীদের সুরক্ষায় বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়, তখন ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়ে। পূর্ববর্তী শাসকদলগুলি উত্তরপ্রদেশের অসীম সম্ভাবনাকে সদ্ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছিল এবং রাজ্যটিকে একটি অনুন্নত এলাকায় পরিণত করেছিল। এর বিপরীতে, বর্তমান ডাবল-ইঞ্জিন সরকার সঠিক নীতি, শক্তিশালী বিনিয়োগ এবং দেশীয় উৎপাদনের নিখুঁত সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর স্বপ্ন বাস্তবে রূপায়ণ করে চলেছে।

মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, মাত্র সাড়ে নয় বছরের স্বল্প সময়ের মধ্যে উত্তরপ্রদেশ আজ দেশের মোট মোবাইল ফোন উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশের ৫৫ শতাংশ উৎপাদন করে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। জেওয়ারে ৩,৭০৬ কোটি টাকা বিশাল ব্যয়ে একটি আধুনিক এইচসিএল-ফক্সকন চিপ ইউনিট দ্রুত নির্মিত হচ্ছে। এছাড়া ৬৪৪-মেগাওয়াটের একটি সুবিশাল ডেটা সেন্টারের প্রস্তাব পাওয়া গেছে এবং রাজ্যে বর্তমানে ২৪,০০০-এরও বেশি সফল স্টার্টআপ ও আটটি ইউনিকর্ন কোম্পানি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এই সাফল্যের প্রকৃত অর্থ হলো, উত্তরপ্রদেশের এই অর্থনৈতিক যাত্রা আজ সাধারণ মোবাইল ফোন তৈরির পর্যায় থেকে ধাপে ধাপে মডিউল এবং মডিউল থেকে একেবারে মাইক্রোচিপ তৈরির উচ্চ প্রযুক্তির যুগে প্রবেশ করেছে।

২০১৭ সালের আগের দিনগুলির কথা স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, তখনকার সময়ে উন্নয়নের প্রধান মাপকাঠি ছিল স্বজনপ্রীতি, সাংস্কৃতিক উৎকর্ষের নামে শুধু সাইফাই উৎসব আর শিল্পায়নের একমাত্র চালিকাশক্তি ছিল কুখ্যাত মাফিয়াতন্ত্র। কিন্তু বর্তমান সরকার এই দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। পারিবারিক উন্নয়নের পরিবর্তে রাজ্যের সর্বাঙ্গীন উন্নয়ন, মাফিয়াদের সুরক্ষার পরিবর্তে শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা এবং তোষণ নীতির পরিবর্তে আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ইলেকট্রনিক্স শিল্প ও প্রযুক্তির এই বিপুল প্রসারের সাথে সাথে ডেটা সেন্টারের চাহিদা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলস্বরূপ, আজ উত্তরপ্রদেশ ডেটা সেন্টার থেকে শুরু করে একেবারে এআই সিটি পর্যন্ত ভবিষ্যতের ডিজিটাল অর্থনীতির সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করতে সফল হয়েছে।

রাজ্যের যুবসমাজকে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির উপযোগী করে তুলতে এআই-প্রজ্ঞার মাধ্যমে প্রায় ১০ লক্ষ তরুণ-তরুণীকে নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের এই ক্রমবর্ধমান স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম আজ তরুণ প্রজন্মকে গতানুগতিক চাকরিপ্রার্থী থেকে সফল চাকরিদাতায় রূপান্তরিত করছে। এককালের পরনির্ভরশীল প্রযুক্তি বাজার আজ সম্পূর্ণ বদলে গিয়ে উত্তরপ্রদেশকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে, যেখানে রাজ্যটি কেবল প্রযুক্তির ক্রেতা নয়, বরং গর্বের সঙ্গে প্রযুক্তি-স্রষ্টা হয়ে উঠছে। বিধানসভা থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই পর্যন্ত এই দীর্ঘ যাত্রা কেবল উন্নত প্রযুক্তির বিকাশই নয়, বরং রাজ্যের কোটি কোটি তরুণের জন্য নতুন কর্মসংস্থান, স্বনির্ভর উদ্যোগ এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এক সোনালী দুয়ার খুলে দিয়েছে।