চোখে গামছা বেঁধে তুলে নিয়ে গিয়ে রিগিং করাচ্ছে পুলিশ!’ নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে বিস্ফোরক কংগ্রেস প্রার্থী

বাম বা তৃণমূল আমল হোক কিংবা বর্তমান বিজেপি জমানা—বাংলার নির্বাচন মানেই যেন ভোট লুটের পুরনো দৃশ্যপট। মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুরের হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে উপনির্বাচন চলাকালীন দুই কেন্দ্রেই উঠেছে অবাধ ভোট লুট ও পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার গুরুতর অভিযোগ। একদিকে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান এবং অন্যদিকে রেজিনগরের ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর সরাসরি পুলিশ ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। এমনকি, ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পুলিশের হাতে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের মারধর খাওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগও সামনে এসেছে।
এদিন ভোটের শুরু থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নন্দীগ্রাম। কালীচরণপুর অঞ্চলের গড় চক্রবেড়িয়া এলাকার ২৪১ ও ২৪২ নম্বর বুথে বহিরাগত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে মহিলাদের মারধর করার অভিযোগ ওঠে। সেই খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যান কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। পুলিশের কাছে অনিয়মের অভিযোগ জানাতে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ভিড় ছত্রভঙ্গ করার নামে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং খোদ কংগ্রেস প্রার্থীকে বেধড়ক মারধর করে। জখম অবস্থায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে মিলন প্রধান বলেন, “গণতন্ত্রে সকলে ভোট দেবেন এটাই নিয়ম। কিন্তু পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে নির্বাচন করাচ্ছে। যিনি আমায় এর আগে চোখে গামছা বেঁধে দীঘায় নিয়ে গিয়েছিলেন, সেই তন্ময় মুখোপাধ্যায় এখানে দাঁড়িয়ে রিগিং করাচ্ছেন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ এবং আধা সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করে সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ভোট লুট করানো হচ্ছে।
তবে বিরোধীদের এই সমস্ত চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। টিভি ৯ বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আইনের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে কিছু নিয়ম পুলিশকে মানতেই হয়। পর্যাপ্ত আধা সামরিক বাহিনীও থাকছে। আসলে বাংলায় তো কংগ্রেস প্রতিযোগিতাতেই নেই। কংগ্রেস খায় না মাথায় দেয়? ওরা স্রেফ হাওয়া গরম করার জন্য এসব আবলতাবল কথা বলছে।”
সবমিলিয়ে, উপনির্বাচনের দিন নন্দীগ্রামের মাটি থেকে শুরু করে রেজিনগর—চারদিকে রাজনৈতিক তরজা ও উত্তেজনার পারদ চড়েছে চরমে। সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার সুরক্ষিত করার দাবি তুলে বিরোধীরা সরব হলেও, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্নচিহ্ন।