‘জ্ঞানেশ কুমার দেশের শত্রু!’ ব্যারিকেড টপকে রাহুল-প্রিয়াঙ্কার রাস্তা রোধ, কাঁপছে দিল্লি

SIR (স্পেশাল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিভিউ) বিতর্ক এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজধানী দিল্লি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন সদন অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) ব্লকের ১৪০ জনেরও বেশি সাংসদ। এই মেগা বিক্ষোভ ও মিছিলকে কেন্দ্র করে আজ দিল্লি জুড়ে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা বলয় তৈরি হয়েছে।
ব্যারিকেড টপকে বিক্ষোভ, রাস্তায় বসে পড়লেন রাহুল-খাড়গেরা
সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে নির্বাচন সদনের দিকে যাওয়ার পথে পুলিশি ব্যারিকেডের মুখে পড়েন বিরোধী সাংসদরা। রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং ডি. রাজার মতো শীর্ষ নেতারা আকাশবাণী ভবনের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ধর্মেন্দ্র যাদবসহ বেশ কয়েকজন তরুণ সাংসদ পুলিশের ব্যারিকেড টপকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। নির্বাচন কমিশন সদর দফতরের মাত্র ২০০ মিটার দূরে বসে ‘ভোট চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন ক্ষুব্ধ সাংসদরা।
তিন হাজারের বেশি পুলিশ ও র্যাফ মোতায়েন
মিছিল ঘিরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে নয়া দিল্লি এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে দিল্লি পুলিশ। সংসদ ভবন, পার্লামেন্ট স্ট্রিট এবং নির্বাচন সদন চত্বরে তিন হাজারের বেশি পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ২৭টি পুরুষ কোম্পানি, ৪টি মহিলা কোম্পানি এবং র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)-এর পাশাপাশি সিআইএসএফ (CISF)-এর জওয়ানরাও পাহারায় রয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে খোদ ডিসিপি সচিন শর্মা সহ সমস্ত পুলিশ আধিকারিকরা বডি ক্যামেরা পরে ডিউটি করছেন। এই বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিবসেনা (UBT) সাংসদ সঞ্জয় রাউত নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি ‘দেশের শত্রু’ বলে আক্রমণ করেন।
আপের দূরত্ব তৈরি
এদিকে, ইন্ডিয়া জোটের এই জোরালো প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দেয়নি আম আদমি পার্টি (AAP)। আপ রাজ্যসভা সাংসদ সঞ্জয় সিং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, SIR নিয়ে আন্দোলনটি একটি গণআন্দোলন হলেও আপ নিজস্ব উপায়ে এই লড়াই লড়ছে এবং ইন্ডিয়া জোটের এই মিছিলে তারা অংশ নিচ্ছে না।
যান চলাচলে কড়াকড়ি
এই হাই-ভোল্টেজ প্রবাদের জেরে কনট প্লেস, প্যাটেল চক, উইন্ডসর প্লেস, অশোকা রোড এবং যন্তর মন্তর রোড সহ সংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে ট্রাফিক অ্যাডভাইজারি জারি করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে।