যানজট ও বিষাক্ত বাতাসের মাঝেই প্রকাশ পেল চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট, ব্যক্তিগত বাহনেই ভরসা দেশের সিংহভাগ কর্মীর!

দীপাবলি আসন্ন আর উৎসবের আমেজের সঙ্গেই রাজধানীতে ফিরছে চেনা বিষাক্ত ধোঁয়াশা। নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে বাজি ফাটানোর জেরে প্রতি বছরই বাতাস হয়ে ওঠে শ্বাসরুদ্ধকর, যার জেরে প্রশাসনের তরফ থেকে বারবার কারপুলিং ও গণপরিবহণ ব্যবহারের জোরালো আবেদন জানানো হয়। কিন্তু ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্স অফিস (এনএসও)-এর প্রথম ন্যাশনাল হাউসহোল্ড ট্রাভেল সার্ভে (এনএইচটিএস)-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, সরকারের সমস্ত প্রচেষ্টাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দেশের মাত্র ১৫ শতাংশ কর্মী বাস, ট্রেন বা অটো-রিকশার মতো গণপরিবহণে যাতায়াত করেন।

সমীক্ষা অনুসারে, প্রতিদিন কর্মস্থলে যাতায়াতকারী কর্মীদের সিংহভাগ অর্থাৎ ৪৬ শতাংশই ব্যক্তিগত দুই চাকার গাড়ি বা চার চাকার বাহন ব্যবহার করেন। এর মধ্যে গোটা দেশে ৪৩ শতাংশ কর্মী বাইক বা স্কুটার এবং মাত্র ৩ শতাংশ কর্মী কারে অফিসে পৌঁছন। শহরাঞ্চলে এই প্রবণতা আরও মারাত্মক রূপ নেয়, যেখানে ৫৩ শতাংশ কর্মী দুই চাকার গাড়ি এবং প্রায় ৬ শতাংশ মানুষ চার চাকা ব্যবহার করেন। এমনকি গোয়া ও পঞ্জাবের মতো রাজ্যগুলিতে ব্যক্তিগত যাতায়াতের এই হার দিল্লির চেয়েও বহুগুণ এগিয়ে রয়েছে।

শুধু যানবাহনই নয়, এই সমীক্ষায় উঠে এসেছে আরও চমকপ্রদ তথ্য। যাতায়াতের দিক থেকে হাঁটাচলা ভারতে দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রচলিত মাধ্যম। মোট ২৮.৩ শতাংশ কর্মী এবং ৩৭ শতাংশ পড়ুয়া হেঁটে তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছন। গ্রামীণ এলাকায় হেঁটে যাতায়াতের হার ৩৬ শতাংশ হলেও শহরাঞ্চলে তা নেমে আসে ১৪ শতাংশে। সাইকেল ব্যবহারকারীর হার প্রায় ১০.৭ শতাংশ। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে পরিচালিত এই সমীক্ষায় দেখা গেছে, একজন কর্মীর অফিসে পৌঁছতে গড়ে ২৫ মিনিট সময় লাগে এবং সকাল ১০টার আগেই প্রায় ৯৫ শতাংশ কর্মী ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন।

খরচের পরিসংখ্যানেও রয়েছে বিশাল ফারাক। যাতায়াতের পিছনে কর্মীরা প্রতি মাসে গড়ে ৭৮৫ টাকা খরচ করলেও পুরুষ ও মহিলাদের খরচে বড় তফাত দেখা গেছে। পুরুষরা গড়ে ৮৩৫ টাকা খরচ করলেও মহিলারা খরচ করেন মাত্র ৫৩৩ টাকা। পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা; প্রায় ৮৮ শতাংশ শিক্ষার্থী আধ ঘণ্টার মধ্যেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে যান, যার গড় সময় মাত্র ২৩ মিনিট। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত যানবাহনের এই অতি-নির্ভরতাই শহরগুলিতে ভয়াবহ যানজট এবং ক্রমবর্ধমান দূষণের অন্যতম মূল কারণ। যদি দ্রুত গণপরিবহণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও মানোন্নয়ন না করা হয়, তবে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।